• রামমন্দিরের অনুদান চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত ট্রাস্টের ঘনিষ্ঠ, আট জনের বিরুদ্ধে FIR
    এই সময় | ২৬ জুন ২০২৬
  • অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদান আত্মসাতের অভিযোগের তদন্তে ১৫ দিন সময় চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তার আগেই বড় পদক্ষেপ করল যোগী সরকার। অনুদান চুরির অভিযোগের ভিত্তিতে আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে মোট আটজনকে। চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশ জুড়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

    ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর জমা পড়া প্রণামী নিয়ে অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে শেষে তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) মঙ্গলবার প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেয়। এর পরে রিপোর্টের ভিত্তিতে সরকারি ভাবে FIR দায়ের করা হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে ছয়জন মন্দিরের নগদ অনুদান গোনার কাজে যুক্ত ছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে অনুদানের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে। অভিযুক্তদের সন্দেহজনক কার্যকলাপ ধরা পড়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তির নাম অনুকল্প মিশ্র ও লবকুশ মিশ্র। বাকি অভিযুক্তদের কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে, কয়েকজনের খোঁজে তল্লাশি চলছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শ্রী রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের ঘনিষ্ঠ ও প্রধান সহযোগী রমাশঙ্কর যাদব ওরফে তিন্নু যাদব। তিনি চম্পত রাইয়ের গাড়ি চালক ছিলেন।

    উত্তরপ্রদেশ পুলিশের লখনউ জ়োনের এডিজি প্রবীণ কুমার বৃহস্পতিবার জানান, এফআইআর-এ যাঁদের নাম অভিযুক্ত হিসাবে রয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রামশঙ্কর যাদব ওরফে তিন্নু, লবকুশ মিশ্র এবং অনুকল্প মিশ্র।

    এই ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করেছে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় ৭ থেকে ৭.৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুদানের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে টাকার অঙ্ক বাড়তে পারে বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

    প্রথমে বিষয়টি রাজনৈতিক স্তরে সামনে আসে। বিরোধী রাজনৈতিক মহল অভিযোগ তোলে যে রাম মন্দিরে আসা অনুদানের অর্থে অনিয়ম হচ্ছে। এরপর বিষয়টি গুরুত্ব পেলে উত্তরপ্রদেশ সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে। SIT প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরেই সরকারি ভাবে এফআইআর দায়ের করা হয়।

    তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, অনুদান সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও গণনার পুরো প্রক্রিয়ায় কোথায় গাফিলতি বা জালিয়াতি হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, নগদ অর্থ পরিচালনার ব্যবস্থায় একাধিক স্তরে ত্রুটি থাকতে পারে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।সূত্রের খবর, প্রাথমিক রিপোর্টে ১৭ জন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়াও ১৫০-র কাছাকাছি মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত সেবাদারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

    চুরির ঘটনা সামনে আসতেই রাজনৈতিক ময়দানে তোলপাড়। বিভিন্ন বিরোধী দল তদন্তের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার দাবি তুলেছে। অন্যদিকে, তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার আগে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে।

    এখন নজর তদন্তের পরবর্তী ধাপের দিকে। প্রশাসনের দাবি, মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় যদি কোনও অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তবে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চুরিতে সহযোগীর নাম জড়াতেই চম্পত রাইকে পদত্যাগ করার কথা বলা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

  • Link to this news (এই সময়)