এই সময়: আরজি করে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ–খুনে সিবিআই তদন্তে নতুন কোনও অগ্রগতি না দেখে বিরক্ত হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জমা দেওয়া রিপোর্ট দেখে বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চের মন্তব্য, নতুন নির্দেশ দেওয়ার পরেও কোনও তদন্ত হয়নি।
সিবিআইয়ের ডিরেক্টর কি বুঝতে পারছেন না, নতুন তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নাকি পুরোনো তদন্ত খতিয়ে দেখার কথা জানানো হয়েছে। এই অবস্থায় আগের তদন্তকারী অফিসারকে (আইও) নতুন তদন্তের সিট থেকে সরানোর নির্দেশও দিয়েছে আদালত। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, ২০২৪–এর অক্টোবরে চার্জশিট জমার পরে সিবিআইয়ের তদন্ত একফোঁটাও এগোয়নি। ৬ অগস্ট তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে সিবিআইকে।
এ দিনের শুনানির পরে মৃতের পরিবারের প্রশ্ন, আদৌ কি সিবিআইয়ের সিট তাদের এজেন্সির আগের তদন্তের ত্রুটি থাকলে, সেটা চিহ্নিত বা প্রকাশ করতে পারবে! শুনানিতে সিবিআইয়ের সিটের জমা দেওয়া রিপোর্ট দেখেও হতাশ ডিভিশন বেঞ্চ। বেঞ্চের প্রশ্ন, হাইকোর্ট ফের তদন্তের জন্য সিট গঠনের নির্দেশ দেওয়ার পরেও কী করছে সিবিআই?
ঘটনার প্রায় দু’বছর হয়ে গিয়েছে। যে সব তথ্য–প্রমাণ নতুন করে খতিয়ে দেখার কথা, তার কিছুই হয়নি। যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে, সেগুলো আগের তদন্ত রিপোর্টের অংশ মাত্র। কার্যত কাট–পেস্ট। তাতে নতুন কী আছে? আগের রিপোর্টেরই চর্বিত–চর্বণ। বিরক্ত আদালতের আরও মন্তব্য, ক্রাইম সিন ধ্বংস করা হয়েছে, তথ্য–প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ রয়েছে, কিন্তু সিবিআই নতুন তদন্তে সে সব দেখছে না। মৃতের মায়ের অভিযোগগুলো দেখা হোক। ২১ মে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পরে এবং কোন দিকে বেশি নজর দিতে হবে, তা বিস্তারিত জানানোর পরেও সিবিআই কিছু করেনি।
সিবিআইয়ের আইনজীবীর বক্তব্য, সংস্থার হয়ে একদল আগে তদন্ত করেছেন, সেই তদন্তে নতুন করে হাত দেওয়াটা উচিত মনে হয়নি। এখনও হাসপাতাল ও পুলিশের অনেক ত্রুটি সামনে এসেছে। এটা শুনে বিরক্ত বিচারপতিদের বক্তব্য, ‘আপনারা কি হাইকোর্টেরও উপরে? অর্ডারটা হাইকোর্ট দিয়েছিল। আগের তদন্তে ত্রুটি থাকতে পারে, তাই তো সিট গঠন করে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আর এখনও সিবিআই ডিরেক্টর বুঝতে পারছেন না, ট্রান্সফার হলো কি না! তদন্ত নানা জটিলতায় আটকে!’
মৃতের পরিবারের আইনজীবী জয়ন্তনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘পরিবারের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। তবে যে সব ত্রুটির তালিকা দেওয়া হয়েছে, তার প্রায় কোনও ব্যাপারেই সিট নজর দেয়নি। এই অবস্থায় বৃহত্তর স্বার্থে সিবিআইয়ের জায়গায় আদালত তদন্তের ভার সিআইডিকে দিলেও আমাদের আপত্তি নেই।’