• শেষ ফোনে জানিয়েছিলেন 'পরে কথা হবে', বাবার বাড়ি ফেরার আশা নিয়ে ডুকরে কাঁদছে ছেলে-মেয়ে
    News18 বাংলা | ২৬ জুন ২০২৬
  • তারাতলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনার রেশ এসে পৌঁছল পশ্চিম বর্ধমানের রানীগঞ্জেও। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ওই গোডাউনে কাজে গিয়েছিলেন রানীগঞ্জের লায়েক বাঁধ ৩ নম্বর ধাওড়া এলাকার বাসিন্দা নবীন সিং। গোডাউন ভেঙে পড়ায় পর থেকে তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি। ঠিকাদারদের কাছ থেকে এই দুঃসংবাদ পাওয়ার পর থেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েছে পরিবার। শেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত এখনও তাঁর হদিস মেলেনি।

    স্বামীকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পাওয়ার আশায় রানীগঞ্জ থেকে কলকাতার দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছেন স্ত্রী নেহা দেবী এবং তাঁর বড় ছেলে। কিন্তু দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও এখনও প্রিয়জনের কোনও হদিশ না পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলেই ডুকরে কাঁদছেন তাঁরা। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার দিন সকাল ১০টা নাগাদ শেষবারের মতো ফোনে কথা হয়েছিল নবীনের সঙ্গে।

    সেই সময় ফোনের ওপার থেকে নবীন স্ত্রীকে বলেছিলেন, “এখন কাজে খুব ব্যস্ত আছি, পরে ফোন করে কথা বলব।” কে জানত, স্ত্রীর সঙ্গে এটাই তাঁর জীবনের শেষ কথা হতে পারে। এরপর থেকেই নবীনবাবুর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা যায়নি বলেই জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার খবর দেখে এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে খবর পেয়ে আর ঘরে স্থির থাকতে পারেননি নেহা দেবী। শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে নবীনের পরিবারের তরফে একটি বিশেষ শারীরিক চিহ্নের কথা জানানো হয়েছে।

    জানা গিয়েছে, নবীনের হাতে একটি উলকি দিয়ে তাঁর নিজের নাম লেখা রয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের তালিকা এবং কোনও নিথর দেহ উদ্ধার হলে এই উলকি দেখেই তাঁকে সনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হবে বলে খবর। তবে এই ঘটনার পর থেকে এলাকার সকলেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। বাবাকে নিয়ে মা ফিরে আসবে এই আশাতেই ঘরে রয়েছে আরও দুই সন্তান। সব মিলিয়ে গভীর উৎকণ্ঠায় রয়েছে পরিবার।
  • Link to this news (News18 বাংলা)