• গাড়ি গেলেই কাঁপছে পুরো কাঠামো, বর্ষার আগেই বসে গেল ব্যস্ত নিগন ব্রিজের একাংশ
    News18 বাংলা | ২৬ জুন ২০২৬
  • বসে গিয়েছে ব্রিজের একদিক। হেলে পড়েছে গোটা কাঠামো। জায়গায় জায়গায় বড় বড় ফাটল, খসে পড়ছে কংক্রিটের চাঙড়, বেরিয়ে এসেছে লোহার রড। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে শেষ পর্যন্ত ব্রিজের ওপর দিয়ে বাস, লরি-সহ সমস্ত ভারী যান চলাচল বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। কিন্তু ব্রিজেপ বহুদিন ধরে খারা অবস্থা থাকার পরেও কেন ব্যবস্থা নিতে দেরি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। উল্লেখ্য, কাটোয়া-বর্ধমান সড়কে মঙ্গলকোটের নিগনে ব্রম্ভানী নদীর উপর অবস্থিত এই ব্রিজ ২০০১ সালে নির্মিত হয়েছিল।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণের পর থেকে কার্যত কোনও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি। প্রায় দেড় বছর ধরেই ব্রিজের বিভিন্ন অংশে ক্ষয়ের চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল। মাস দুয়েক আগে বড় ফাটল ধরা পড়ার পর ব্রিজটিকে দুর্বল বলেও চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবুও অবাধে চলেছে বাস, লরি-সহ ভারী যানবাহন। শেষ পর্যন্ত ব্রিজের একদিক বসে গিয়ে কাঠামো হেলে পড়ার পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। নিত্যযাত্রী সব্যসাচী ভট্টাচার্য্য বলেন, “আমি কাটোয়া বাসস্ট্যান্ডে গিয়েছিলাম বর্ধমান যাওয়ার জন্য বাস ধরতে, কিন্তু বাস চলাচল করছে না।

    ব্রিজ বেহাল থাকার কারণে বাস অনেক ঘুরে বর্ধমান যাচ্ছে। ভাড়াও বেশি নেওয়া হচ্ছে। আমাদের এতে খুবই অসুবিধা। খুব তাড়া তাড়ি ব্রিজ সংস্কার হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।” এখন ব্রিজের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। ভারী যান চলাচল বন্ধ থাকায় কার্যত বিপর্যস্ত কাটোয়া-বর্ধমান রুটের বাস পরিষেবা। ঘুরপথে চলাচল করায় বাড়ছে সময়, বাড়ছে ভাড়া। প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার নিত্যযাত্রী।

    স্থানীয় বাসিন্দা নির্মল মাঝি বলেন, “এখনও গাড়ি গেলেই ব্রিজ কাঁপছে। বর্ষা এগিয়ে এসেছে। যেকোনও সময় ব্রিজ একেবারে নেমে যাবে। ইঞ্জিনিয়াররা আসছে ছবি তুলছে চলে যাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত কাজের কাজ কিছুই হয়নি।” প্রশাসনিক সূত্রে খবর, আগামী চার মাসের মধ্যে নিগন ব্রিজের সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বর্ষা একেবারে দরজায় কড়া নাড়ছে। তাই বাসিন্দাদের দাবি, আর কোনও আশ্বাস নয়, দ্রুত সংস্কারের কাজ শুরু হোক। কারণ, সামান্য গাফিলতিই ডেকে আনতে পারে বড়সড় দুর্ঘটনা।
  • Link to this news (News18 বাংলা)