• মাথায় গুলি আর গলার নলি কাটা! মধ্যপ্রদেশে লাল গাড়িতে যুবক-যুবতীর রহস্যমৃৃত্যু, ৫০ ফুট দূরে ৩টি ফোন
    এই সময় | ২৬ জুন ২০২৬
  • ফাঁকা জায়গায় দাঁড় করানো লাল রঙের গাড়ি। তার ভিতরে চালকের আসন ও তার পাশের সিটে এক তরুণ এবং এক তরুণীর নিথর দেহ পড়ে। যুবকের মাথায় গুলির ক্ষত। তাঁর মুখের একাংশও পুড়ে গিয়েছে। আর যুবতীর গলার নলি কাটা। তাঁর শরীরের একাধিক জায়গায় কালশিটে ও ক্ষত। এই অবস্থাতেই বৃহস্পতিবার ভোর তিনটে নাগাদ দু’টি দেহ উদ্ধার হয় মধ্যপ্রদেশের অশোকনগরে মাহানা গ্রামের কাছে ইশাগড় রোডের পাশ থেকে।

    পুলিশ জানিয়েছে, মৃত তরুণের নাম ঋত্বিক সোনি (২৬) এবং যুবতীর নাম মুসকান জৈন (২৪)। দু’জনেই অশোকনগরের বাসিন্দা। বুধবার রাতে তাঁরা নিজেদের বাড়ি না ফেরায় পরিবারের তরফে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছিল। তদন্তে নেমে দু'জনের মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে তাঁদের দেহ উদ্ধার হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে আরও বেশ কিছু জিনিস উদ্ধার হয়েছে। তার ফলেই গোটা ঘটনা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। পুলিশ জানিয়েছে, লাল রঙের ওই গাড়ির ভিতর থেকেই একটি পিস্তল, রক্তমাখা কুড়ুল, একটি করাত, এক প্যাকেট সালফাস (বিষ) আর একটি চিরকূট পাওয়া গিয়েছে। আর গাড়ি থেকে ৫০ ফুট দূরে পড়ে ছিল তিনটি মোবাইল ফোন, তিনটি টুপি আর একটি লাইটার। গাড়ির পিছনের সিটও পোড়া ছিল।

    অশোকনগরের পুলিশ সুপার রাজীব মিশ্র জানান, গত বুধবার সন্ধ্যায় ঋত্বিকের গাড়িতে দু’জন ইমলার দিকে গিয়েছিলেন। অনেক রাত হয়ে যাওয়ার পরেও তাঁরা ফেরেননি দেখে মুসকানের পরিবারের লোকেরা পুলিশে নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করেন। তার পরেই পুলিশ তদন্তে নামে। এসপি বলেন, ‘মোবাইল ফোনের লোকেশন ডেটা দেখে ২ জনকে খুঁজে বার করেছে পুলিশ। শভ টোল প্লাজ়ার কাছে দাঁড় করানো একটি গাড়ি থেকে তাঁদের দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থলে ফরেন্সিক টিম গিয়েছে। অকুস্থল পরীক্ষা করেছেন সিনিয়র পুলিশকর্তারাও।’ পুলিশ জানায়, ছয় সদস্যের বিশেষ দল গড়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

    পুলিশ সুপার আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকূট থেকে ইঙ্গিত মিলেছে যে, ঋত্বিক প্রথমে মুসকানকে খুন করেন। তার পরে নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ তদন্তকারী দলও গঠন করা হয়েছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও। ২ জনের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    ২-৩ বছর আগে ইন্দোরের একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন ঋত্বিক এবং মুসকান। পরে ঋত্বিক গাড়ির ইন্টেরিয়র ডিজ়াইনের ব্যবসা শুরু করেন। ঘটনার মাত্র ১৫ দিন আগেই অশোকনগরে ফিরে এসেছিলেন ঋত্বিক। তাঁদের মধ্যে কোনও প্রেমের সম্পর্ক ছিল কি না, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়।

    মুসকানের পরিবার জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরোনোর পরে আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। তাঁর মোবাইল বন্ধ ছিল। অভিযোগ, প্রথমে ঋত্বিকের পরিবারের লোকেরা স্থানীয় থানায় গিয়ে ২ জনের নিখোঁজ হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন পুলিশকে। কিন্তু পুলিশ সেই সময়ে বিষয়টি গুরুত্বই দেয়নি। পরে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে মুসকানের পরিবার।

    ঋত্বিকের বাবার অভিযোগ, তাঁর ছেলে এবং মুসকানকে খুন করা হয়েছে। কিন্তু এমন ভাবে কাজ সারা হয়েছে, যাতে মনে হয় যে তাঁরা আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর কথায়, ‘মেয়েটি আমার ছেলের খুব ভালো বন্ধু। কিন্তু ওদের মধ্যে কী সম্পর্ক আমি জানি না। মেয়েটিকে মারতে কেন আমার ছেলে চার আলাদা আলাদা জিনিস ব্যবহার করবে? তার পরে নিজেকে খুন করবে? ওদের মধ্যে কোনও ঝগড়া ছিল না। কোনও কারণই নেই। অন্য কেউ ওদের খুন করেছে।’

  • Link to this news (এই সময়)