• ডুবে মৃত্যু নাবালকের, তিন জনকে বাঁচালেও আপশোস ভলেন রায়ের
    এই সময় | ২৬ জুন ২০২৬
  • এই সময়, ময়নাগুড়ি: দুপুরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন নদীতে। ভাবেননি, এমন ভয়াবহ ঘটনা দেখতে হবে। চোখের সামনে চার কিশোরকে জলঢাকার স্রোতে ভেসে যেতে দেখে, নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন ভলেন রায়। তিন কিশোরের প্রাণ বাঁচলেও এক জনকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের চোখে ৫৫ বছরের ভলেন এখন হিরো হলেও সবাইকে বাঁচাতে না পারার আক্ষেপ তাঁকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে নদীতে নেমেছিল চার কিশোর। ময়নাগুড়ি ব্লকের রামসাই বারোহাতি এলাকার ঋক দেবনাথ (১২), তার ভাই ঋজু দেবনাথ, সঙ্গে তাদের প্রতিবেশী বন্ধু জয়দীপ সাহা ও আকাশ সাহা। কাশিয়াবাড়ি সংলগ্ন নাথুয়া রেঞ্জের লালপাতা জঙ্গল লাগোয়া জলঢাকা নদীতে স্নান করার সময়ে আচমকাই তারা গভীর স্রোতে তলিয়ে যেতে শুরু করে।

    তাদের চিৎকার শুনে কিছুটা দূরে মাছ ধরতে থাকা ভলেন ছুটে আসেন। একটি ভাঙা থার্মোকলের টুকরো নিয়ে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন নদীতে। একে একে তিন কিশোরকে উদ্ধার করেন। কিন্তু ঋক ততক্ষণে প্রবল স্রোতে ভেসে যায়।

    এই খবর ছড়িয়ে পড়তে নদীর ধারে ভিড় জমে যায়। ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ এবং সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও লোকালয় থেকে নাথুয়ার জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছতে তারা সমস্যার মুখে পড়ে। উদ্ধারকারী দলের গাড়ির চাকা কাদায় আটকে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় নদীতে তল্লাশি শুরু হয় এবং ডুবুরিও নামানো হয়। দীর্ঘ তল্লাশির পরে বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ঘটনাস্থল থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে পানবাড়ি নৌকোবিহার সংলগ্ন জলঢাকা নদী থেকে ঋকের দেহ উদ্ধার করা হয়।

    উদ্ধারকারী ভলেন বলেন, 'ওরা জলে নামার সময়েই দেখেছি। বলেছিলাম, গভীর জলে যেন না যায়। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে জলের স্রোতে ভেসে যেতে শুরু করে ওরা। তার মধ্যে তিন জনকে টেনে তুলতে পেরেছি। কিন্তু এক জনকে প্রাণে বাঁচাতে পারলাম না।' ঋকের কাকা গৌতম দেবনাথ বলেন, 'দুপুর নাগাদ আমার দুই ভাইপো ও তার বন্ধুরা ক্রিকেট খেলার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। সবার অজান্তে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে জলঢাকা নদীতে স্নান করতে চলে যায়, এটা জানা যায়নি। গত বুধবারই দাদা কাজের সূত্রে কলকাতায় গিয়েছেন। এর মধ্যেই এই দুর্ঘটনা ঘটল।'

    ময়নাগুড়ির বিডিও সৌমেন দাস বলেন, 'অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। উদ্ধারকারী ভলেন রায় যে ভাবে সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে তিন নাবালককে উদ্ধার করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।'

  • Link to this news (এই সময়)