• ১১ বছরের নাবালককে উল্টো করে ঝুলিয়ে নির্যাতন, প্রকাশ্যে আসা ভিডিয়োয় বিতর্ক জয়নগরে
    এই সময় | ২৬ জুন ২০২৬
  • খেলতে খেলতে পথচলতি এক যুবকের গায়ে লাঠি দিয়ে ভুল করে আঘাত করে ফেলেছিল বছর এগারোর এক বালক। এটাই ছিল তার ‘দোষ’। তার জন্য সেই নাবালককে গেঞ্জির কলার ধরে মারতে মারতে প্রথমে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। তার পরে ঘরের মধ্যে কড়িকাঠে উল্টো করে ঝুলিয়ে তাকে নৃশংস নির্যাতনের অভিযোগ উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরে। এই ঘটনার একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা এই সময় অনলাইন যাচাই করেনি। তবে সেটি প্রকাশ্যে আসতেই জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। নাবালকের পরিবারের তরফে ইতিমধ্যেই জয়নগর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু অভিযুক্তরা এখনও অধরা। বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপার অরবিন্দ কুমার আনন্দ বলেন, ‘ ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তদন্ত চলছে।’

    স্থানীয় সূত্রে খবর, জয়নগর থানার এলাকার ধোষা-চন্দনেশ্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব চন্দনেশ্বর গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। আক্রান্ত নাবালক পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। পরিবার জানিয়েছে, ঘটনার দিন এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে খেলছিল সে। সেই সময়ে অসাবধানতাবশত স্থানীয় বাসিন্দা তপন হালদারের গায়ে লাঠি দিয়ে আঘাত করে ফেলে সে। অভিযোগ, এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে তপন ওই কিশোরকে চুলের মুঠি ধরে টানতে টানতে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান প্রথমে। তার পরে ওই নাবালকের পা দড়ি দিয়ে বেঁধে তাকে কড়িকাঠে উল্টো করে ঝুলিয়ে মারধর করা হয়। পোশাক খুলিয়েও নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ।

    নির্যাতিত নাবালকের পরিবার জানিয়েছে, ঘটনার পরে বাড়ি ফিরে ভয়ে কিছু বলেনি সে। পরে তার শরীরের নানা জায়গায় আঘাতের চিহ্ন দেখে সন্দেহ হয় সকলের। তার পরে নির্যাতনের ভিডিয়োটি তাদের হাতে আসে বলে জানিয়েছে পরিবার। তারা জানিয়েছে, ভিডিয়োয় তারা দেখেছে যে, ঘটনার সময়ে তপনের পরিবারের লোকেরা এবং স্থানীয় কয়েক জন ঘটনাস্থলে ছিলেন। তাঁরাই নির্যাতনের ভিডিয়োটি মোবাইলে রেকর্ড করেছেন। নির্যাতনের কথা বাড়িতে গিয়ে বললে তাকে আরও অত্যাচারের শিকার হতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে, এমনটাই দাবি নাবালকের পরিবারের।

    নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরেই ওই নাবালককে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে। সেখানে তার মাথায় সিটি স্ক্যান ও বুকে এক্স রে করা হয়। পরিবার জানিয়েছে, তাদের ছেলে এখনও পুরোপুরি সুস্থ নয়। শরীরে যন্ত্রণার কারণে সে স্কুলেও যেতে পারছে না। পরিবারের তরফে জয়নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরিবারের দাবি, এখনও পর্যন্ত অভিযুক্ত তপনকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। স্থানীয় সূত্রে খবর, অভিযুক্তের বাড়িতে তালা ঝুলছে। ঘটনার পর থেকেই তপন এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত পরিবারের তরফেও তাদের বক্তব্য জানানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তের অগ্রগতি দেখেই পদক্ষেপ করা হবে।

  • Link to this news (এই সময়)