ভোট মিটেছে। তবে বাংলায় এখন শাসক বিরোধী তরজা সে অর্থে দেখা যাচ্ছে না, যতটা দেখা যাচ্ছে বিরোধী বনাম বিরোধী তরজা। তাও আবার এক দলের, দুই পৃথক গোষ্ঠীর। ধীরে ধীরে তরজা এগোচ্ছে ব্যক্তি আক্রমণের দিকে। কেউ পুরনো ঘটনা তুলে আনছেন, কেউ পাল্টা পয়েন্টে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না ষোলআনা। সকাল-বিকেল ছবি, প্রায় একই।
এসবের মাঝেই, বৃহস্পতিবার সন্ধেয়, উত্তর কলকাতায়, কুণাল ঘোষের নেতৃত্বে, নিজেদের 'কালীঘাটের তৃণমূল' কিংবা 'মমতা ব্যানার্জির সৈনিক' প্রমাণ করার সভা হল, 'আমরা বেইমান নই' নামে। সেখানে চমক দিলেন কুণাল। কর্মীদের মাইকে শোনালেন মমতা ব্যানার্জির দীর্ঘ একটি রেকর্ডিং। তাতে অবশ্যই দলনেত্রী বুস্টার ডোজ দেওয়ার চেষ্টা করলেন। যাঁরা বিগত মাসখানেকে তাঁর সঙ্গে, কালীঘাটের তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছেন, তাঁদের ও একহাত নেন। নাম না করেই চরম কটাক্ষ করেন, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত ব্যানার্জিকে। সেসব শুনে, আজকাল ডট ইন-কে প্রতিক্রিয়া দিলেন ঋতব্রত।
মমতা ব্যানার্জি, ঋতব্রতর নাম উচ্চারণ না করেই, তাঁকে 'বিজেপি স্পনসর্ড, একটা সিপিএম-এর নেতা' বলে উল্লেখ করেন বক্তব্যে। বলেন, 'সিপিএম একটা কাজ ভাল করেছিল, ওটাকে তাড়িয়ে দিয়ে।' সঙ্গেই তিনই কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দিতে গিয়ে বলেন, যাঁরা জয়ী হয়েও, কর্মীদের পরিশ্রমের দাম না দিয়ে, ধৈর্য না ধরে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তাঁরা 'বিশ্বাসঘাতক'.
বলেন, 'বিশ্বাসঘাতকদের ক্ষমা নেই। আজ তাঁরা নিজেদের বাঁচাতে পারলেও, জনগণ কৈফিয়ত চাইবেই।' মমতার সংযোজন, 'শুধুমাত্র নিজেদের সম্পত্তি বাঁচানোর জন্য এবং কেসের ভয়ে যারা মায়ের মতো দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলেন, তাদের কোনও ক্ষমা নেই। আজ হয়তো তারা সাময়িক লাভবান, কিন্তু আগামী দিনে রাজ্যের জনগণ তাদের কাছ থেকে কড়ায়-গণ্ডায় কৈফিয়ত বুঝে নেবে।' কর্মীদের আবেগ ছুঁয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে মা আপনাকে বড় করল, আজ যখন সেই মা অসুস্থ, তখন কি তার দেখভাল করবি না? 'বেইমান'দের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েও তিনি বলেন, এখনও যাদের সুবুদ্ধি আছে তারা ফিরে আসুন।
এসব শুনে কী বলছেন খোদ ঋতব্রত? বলছেন, 'কুণাল বাবুর মতে, আমি চার আনার নকুলদানা। সেই কুণালবাবুর অনুষ্ঠানেই চার আনার নকুলদানাকে নিয়ে নেত্রীকে এতটা সময় নষ্ট করতে হচ্ছে, এটাই প্রশ্ন।'