• কোন এলাকাকে কড়া স্ক্যানারে রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী?
    আজকাল | ২৬ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক:  গার্ডেনরিচ বা তারাতলার মতো সাম্প্রতিক একের পর এক বহুতল বিপর্যয় থেকে বড় শিক্ষা নিল রাজ্য প্রশাসন। বেআইনি বা ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ রুখতে এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা, বিধাননগর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক বিস্তীর্ণ অংশে নির্মীয়মাণ বেসরকারি বাণিজ্যিক বহুতলগুলোর ওপর কড়া নজরদারি চালাতে একটি বিশেষ অডিট কমিটি গঠন করেছে সরকার। 

    এই কমিটির পুঙ্খানুপুঙ্খ স্বাস্থ্যপরীক্ষার স্বার্থে আগামী ১ মাসের জন্য ওই সমস্ত এলাকায় ৫ তলার বেশি (জি+৫) বাণিজ্যিক বহুতল নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার সময় যদি নকশায় বড়সড় কোনও  গলদ ধরা পড়ে, তবে সংশ্লিষ্ট বহুতলের অনুমোদন সরাসরি বাতিল করা হতে পারে বলেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    শুক্রবার পিডব্লুডি টেন্টে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই এই বড় সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, আপাতত এক মাসের জন্য কলকাতা পুরসভা এলাকা, বিধাননগর, রাজারহাট, নিউটাউন, পূজালি, বারুইপুর, মহেশতলা, রাজপুর-সোনারপুর, দক্ষিণ দমদম, কামারহাটি, বরানগর এবং বালি এলাকায় সমস্ত বড় বেসরকারি বাণিজ্যিক নির্মাণকাজ স্থগিত থাকবে। এই সময়ের মধ্যে সদ্য গঠিত ১১ সদস্যের অডিট কমিটি বহুতলগুলোর পরিকাঠামো ও স্বাস্থ্য খতিয়ে দেখবে। 

    যদি কোনও  নির্মাণে বড় ধরনের অনিয়ম মেলে, তবে তার লাইসেন্স পুরোপুরি বাতিল হবে। তবে সামান্য ত্রুটি থাকলে নির্মাণ সংস্থাকে তা শুধরে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। অডিট কমিটির ছাড়পত্র মিললে আগামী ১ আগস্ট থেকে ফের এই নির্মাণকাজগুলো শুরু করা যাবে। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আবাসন শিল্প বা নগরায়ণ স্তব্ধ করা সরকারের লক্ষ্য নয়; কিন্তু মানুষের জীবনের দাম সবচেয়ে বেশি, তাই সুরক্ষার স্বার্থেই এই কড়া পদক্ষেপ। সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে তিনি জানান, সাধারণ বসতবাড়ির সংস্কার বা ছোটখাটো কাজের ক্ষেত্রে এই নিয়ম খাটবে না। আমজনতা এই এক মাসে তাদের বাড়ির স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যেতে পারবেন।

    প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, অডিট কমিটির সদস্যরা সবার আগে বহুতলগুলোর নকশা বা ব্লু-প্রিন্ট খতিয়ে দেখবেন এবং আগামী ৭ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে একটি প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেবেন। এরপর নকশা পরীক্ষার পাশাপাশি বহুতলগুলোর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং বৈদ্যুতিক সংযোগে কোনো বিপজ্জনক ত্রুটি রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে। সম্পূর্ণ তদন্ত শেষ করে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে অডিট কমিটিকে। প্রশাসনের এই নজিরবিহীন ও কঠোর মনোভাব দেখে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, আর কোনও  বিপর্যয় যাতে সাধারণ মানুষের প্রাণ কেড়ে না নিতে পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই নিয়মের বেড়াজাল তৈরি করা হল।
  • Link to this news (আজকাল)