• TMC তো ছাড়ছেন, বিশ্বরূপের গন্তব্য কী? বলছেন, 'বাজার ঘুরে দেখছি, কোথায় ভাল আম মেলে'
    আজ তক | ২৬ জুন ২০২৬
  • কলকাতা পুরসভার ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর বিশ্বরূপ দে। কখনও তাঁকে দেখা যাচ্ছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের ডাকা তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে। আবার কখনও তিনি উপস্থিত থাকছেন কুণাল ঘোষের ডাকা মমতাপন্থী তৃণমূলের উত্তর কলকাতা জেলা কমিটির মিটিংয়েও। আবার ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করে তারাতলা বিপর্যয়ের প্রতিবাদে জোড়াফুল প্রতীকের সঙ্গ সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার কথাও জানাচ্ছেন। 'ভাল' তৃণমূল, 'কালীঘাট' তৃণমূল নিয়ে টানাটানিতে তিনি তবে কোন দিকে? bangla.aajtak.in-কে বিশ্বরূপ দে জানালেন নিজের অবস্থান। বললেন, 'বাজার করতে বেরিয়েছি। যে বাজারে ভাল আম পাব, সেখান থেকেই কিনব।'

    ঋতব্রতদের বৈঠকে বিশ্বরূপ
    কয়েকদিন আগেই ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের একটি জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক হয়েছিল পাঁচতারা হোটেলে। সেখানে প্রাক্তন কাউন্সিলরদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। গিয়েছিলেন ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলরও। বৈঠক থেকে বেরিয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, এই প্রতীক মানুষ আর গ্রহণ করবে না। ঋতব্রতদের উচিত নতুন কোনও প্রতীক নেওয়া, সে পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। 

    কুণালের ডাকা বৈঠকেও ছিলেন 
    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাতে আবার বিশ্বরূপ দে-কে দেখা যায় কুণাল ঘোষের ডাকা তৃণমূল কংগ্রেসের উত্তর কলকাতা জেলা কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকতে। তবে কি তিনি মমতাপন্থী? কেবল জল মাপতে গিয়েছিলেন ঋতব্রতদের বৈঠকে?  প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

    দলত্যাগের কথাও ঘোষণা করেন
    আবার শুক্রবার সকালে তারাতলা কাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে দল ছাড়ার কথাও ঘোষণা করেন বিশ্বরূপ। তিনি বলেন, 'মনটা আজ সত্যি ভারাক্রান্ত। একটার পর একটা ঘটনায় যেভাবে তৃণমূল কংগ্রেস এবং জোড়াফুল জড়িয়ে পড়ছে তা চোখে দেখা যায় না, বিশ্বাস করা কঠিন। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন যে তৎকালীন মহানাগরিক স্বাক্ষর করেছেন যে প্ল্যান, অর্থাৎ নকশা মঞ্জুর হয়েছে, তা ত্রুটিপূর্ণ এবং যার ফলে এতগুলো নিরীহ মানুষ প্রাণ হারালেন। এ ব্যথা সহ্য করা যায় না। আমি তাই সিদ্ধান্ত নিচ্ছি যে তৃণমূল কংগ্রেস আর করা যাবে না। আর করবও না।'

    বাজার করতে বেরিয়েছি?
    bangla.aajtak.in-কে বিশ্বরূপ দে বলেন, 'ফিরহাদ হাকিম, তারক সিংয়ের মতো নেতাদের জন্য আজকে পুরসভার এই অবস্থা। ঋতব্রদের বৈঠকে গিয়ে দেখেছি তাঁরাই বসেছিলেন। পরখ করতে গিয়েছিলাম। সব দেখে শুনে আমি সিদ্ধান্ত নিই। কারও হাতে তামাক খেতে রাজি নই।' তিনি আরও বলেন, 'উত্তর কলকাতার বৈঠকে তো নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এলেন না। সবাই ব্যালান্স করে চলছে। আবার চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ছেলে গিয়েছিলেন ঋতব্রতবাবুদের বৈঠকে। আমি খেলার মাঠ থেকে এসেছি, পরখ করে দেখেশুনে নেব।'

    তিনি আদতে কোন দিকে ঝুঁকে রয়েছেন, সে প্রসঙ্গে বিশ্বরূপ বলেন, 'আমি ঘুরে ঘুরে দেখছি গড়িয়াহাট, মানিকতলা না বউবাজার, কোন বাজারে ভাল আম পাওয়া যাচ্ছে। পচা জিনিস নিয়ে আর চলব না।'

    তৃণমূলের প্রতীক ত্যাগ করা নিয়ে বিশ্বরূপের মন্তব্য, 'এই প্রতীক কে পাবেন, আদৌ পাবেন না ফ্রিজ হবে তা এখনও জানা নেই। এই ববি হাকিমেরও প্রতীক তো সেই জোড়া ফুল। তারাতলার ঘটনা কিংবা যা যা ঘটছে, তার ফলে প্রতীকের প্রতি মানুষের বিতৃষ্ণা হয়ে গিয়েছে। আমার কোনও লেনাদেনা নেই, তাই সব দরজা খুলে রাখব। মানুষের কাজ যদি না করি তাহলে এই প্রতীক দিয়ে কী করব।'

    কলকাতা পুরসভার অন্দরে দুর্নীতি হলেও তা নিয়ে কোনওদিন বলার পরিসর ছিল না। এ কথাও স্বীকার করেন বিশ্বরূপ। তিনি বলেন, 'মেয়র সাহেবের কাছে যাওয়ার আগে তো কালীবাবুর কাছে মাথা ঠেকাতে হত। নেত্রীর কাছে পৌঁছনোর মতো অ্যাক্সেস ছিল না। তাঁর চৌহদ্দির মধ্যে পৌঁছনোর পরিস্থিতিই ছিল না। ওখানে বলতে পারিনি কিন্তু আমি পুরসভার অধিবেশনে রেকর্ড ১২৪টি প্রশ্ন করেছিলাম।'

     
  • Link to this news (আজ তক)