'বিদ্রোহী' সাংসদ সায়নী ঘোষকে নিয়ে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর কালীঘাটের তৃণমূল ছেড়ে ঋতব্রতের দলে নাম লিখিয়েছেন সায়নী। এরপরই তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন। দল ওঁকে সব দিয়েছে, তবুও তাঁর বিদ্রোহী হয়ে যাওয়া মানতে পারছেন না মহুয়া। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "সব করেছে দল ওর জন্য। যাকে দল এত দিয়েছে সে কীকরে বিদ্রোহী হতে পারে।"
BBC-কে সাক্ষাৎকারে মহুয়া বলেন, "সায়নী আমার সবচেয়ে প্রিয়। ওকে দল যা দিয়েছে... ও যোগ্যও। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে পার্টি জয়েন করেছে। মার্চ বা এপ্রিলে টিকিট দেওয়া হয়। ওই সিটে খুব ভালো লড়াই করে মোটে ৪ হাজার ভোটে হারল। হারার পর পর দল ওকে সোনায় মুড়ে দিল। অভিষেক বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট ছিল। এককালে শুভেন্দুও এই পদে ছিলেন। সেই পদ ওকে দেওয়া হল। দল তখন ক্ষমতায়। পদটি কোনও ছোট ব্যাপার না। ও প্রতিটি এলাকায় যেতে পারত। আমাকে বাঁকুড়ায় মিটিং করতে হলে কে ডাকবে? ৯০ হাজার বুথে ও যেখানে খুশি যেতে পারে। ও যোগ্য, খেটেছে, মিটিং করেছে।"
তিনি আরও বলেন, "২০২৪-এ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের সিটও দিয়েছিলেন। যাদবপুর সিট পেয়ে জিতল। লোকসভায় অনেক কম বয়সে ও সাংসদ হয়েছে। এই ভোটে আমি বোলেরো গাড়িতে ঘুরেছি। আমার আক্ষেপ নয়। আমি বলছি না আমার যোগ্যতা গাড়ি। ওকে যা মিটিং শিডিউল দেওয়া হয়েছিল গাড়িতে কভার করতে পারত না। তাই হেলিকপ্টারে প্রচার করেছে। সব করেছে দল ওর জন্য। যাকে দল এত দিয়েছে... আমি ভাবতাম বিরোধীদের জন্য ও সেরা। আমার জন্য এটা খুব বড় ধাক্কা ছিল।"
শুভেন্দু প্রসঙ্গে কৃষ্ণনগরের সাংসদ বলেন, আমার সঙ্গে শুভেন্দুর খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। একসঙ্গে দলের কাজ করেছি। উনি আমাকে অনেক সাহায্য করেছিলেন। আমি তা ভুলতে পারব না। আমি যখন প্রথম করিমপুর থেকে লড়াই করি, তখন কেউ আসেননি। কেউ আমার হয়ে প্রচার করেননি। তবে শুভেন্দু এসেছিলেন। আমি আর শুভেন্দু মিলে প্রচার করেছিলাম। সেই প্রমাণ আজও আছে। করিমপুরে যখন টিকিট পাইনি, উনি আমাকে আশ্বস্ত করেছিলেন। বলেছিলেন, বোন আপনার পাশে আছি। এটা ঠিক যে, এখন উনি অন্য দল করেন। আমাদের মতাদর্শ ভিন্ন।