• তারাতলা বিপর্যয় নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, বিল্ডিং প্ল্যান বাতিলেরও হুঁশিয়ারি
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৬ জুন ২০২৬
  • তারাতলা বিপর্যয় এখন রাজ্য-রাজনীতিতে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। কারণ ওই গুদাম ভেঙে পড়ে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কান্না, আর্তনাদ থেকে হাহাকার সেখানে এখন বড় ছবি। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। গতকাল পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছিল। আর এদিন সেই সংখ্যাটাই বেড়ে দাঁড়াল ১৫। আগে গার্ডেনরিচেও এমন বিপর্যয় ঘটেছিল। তখন অবশ্য তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার ছিল। এখন বিজেপির সরকার। তাই এসব বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    এদিকে এই ঘটনার পর আপাতত কলকাতা, বিধাননগর, বরানগর, কামারহাটি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকায় নির্মীয়মাণ বহুতলের স্বাস্থ্যপরীক্ষায় নজর দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। অডিট কমিটির স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য আপাতত ১ মাস জি+৫ নির্মাণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নকশায় বড় ত্রুটি পেলে বাতিল হতে পারে বহুতলের অনুমোদন বলেও হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বিষয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা দেন, ‘তারাতলায় প্ল্যান থাকলেও নজরদারি ছিল না। গার্ডেনরিচে তো প্ল্যানই ছিল না। একের পর এক দুর্ঘটনা এড়াতেই এবার কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তারাতলার গোডাউনের আর্কিটেক্ট ও ডিজাইনারকে ব্ল্যাক লিস্ট করা হলো। এরপরে এমন অভিযোগ এলে এভাবেই ব্ল্যাক লিস্ট করা হবে।’

    অন্যদিকে কোন কোন জায়গা অডিট কমিটির স্ক্যানারে আছে সেটাও এদিন জানান মুখ্যমন্ত্রী। একাধিক দাওয়াইও দিয়েছেন তিনি। কড়া ভাষায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘নিয়ম না মানলে বিল্ডিং প্ল্যান বাতিল করা হবে। রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্য নগরায়ন আটকানো নয়। তবে দুর্ঘটনার কারণে এই সাবধানতা নেওয়া হচ্ছে। বিল্ডিং প্ল্যান অডিটের টিম তৈরি করা হয়েছে। একইসঙ্গে বাণিজ্যিক বহুতলে ফায়ার অডিট করা হবে। মানুষের জীবনের দাম আছে। বহুতলেরও প্ল্যান অডিট করা হবে। একমাস কলকাতা পুরসভা এলাকা, বিধাননগর, রাজারহাট, নিউটাউন, পূজালি, বারুইপুর, মহেশতলা, রাজপুর-সোনারপুর, দক্ষিণ দমদম, কামারহাটি, বরানগর এবং বালিতে বেসরকারি বাণিজ্যিক নির্মাণ বন্ধ থাকবে।’

    তাছাড়া ইতিমধ্যেই ১১ সদস্যের অডিট কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি জি+৫ বহুতলগুলির স্বাস্থ্যপরীক্ষা করবে। বেশি অনিয়ম দেখা গেলে পুরো বাতিল করে দেওয়া হবে অনুমোদন। অল্প ত্রুটির ক্ষেত্রে শোধরানোর সুযোগ দেওয়া হবে নির্মাণ সংস্থাকে। অডিট কমিটির স্বাস্থ্যপরীক্ষায় পাশ হলে ১ আগস্ট থেকে আবার শুরু হবে নির্মাণ। শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি জানিয়ে দেন, ‘রাজ্যে নগরায়ণ আটকে দেওয়া সরকারের উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু মানুষের জীবনের দাম অনেক বেশি। তাই নির্মাণকাজ আইন মেনে ঠিকঠাক হচ্ছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণ মানুষের বসতবাড়ির সংস্কার, সংস্কারমূলক কাজ বা মেরামতি এই নিয়মের এক্তিয়ারভুক্ত নয়। তদন্ত প্রক্রিয়ার গতি বাড়াতে অডিট কমিটিকে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে একটি প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট পেশ করতে হবে।’
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)