• তারাতলার নির্মীয়মাণ কারখানায় দুর্ঘটনা, নিখোঁজ রানিগঞ্জের শ্রমিক নবীন সিং—উদ্বেগে পরিবার
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৬ জুন ২০২৬
  • তারাতলায়  বিপর্যয়ের পর থেকে নিখোঁজ  রানিগঞ্জের লাইকবাজার, লায়েক বাঁধ তিন নম্বর ধাওড়ার বাসিন্দা নবীন সিং। নির্মাণসামগ্রীর নিচে চাপা পড়ে তিনি নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনার খবর পৌঁছতেই স্বামীর খোঁজে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী নেহা দেবী এবং বড় ছেলে, বছর ষোলোর দশম শ্রেণির ছাত্র প্রিন্স।

    পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ স্ত্রী নেহা দেবীর সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা হয় নবীন সিংয়ের। সে সময় তিনি জানান, কাজে ব্যস্ত রয়েছেন, পরে কথা বলবেন। এরপর থেকে আর কোনও যোগাযোগ করা যায়নি তাঁর সঙ্গে।

    দুপুর প্রায় ১টা নাগাদ ঠিকাদারদের কাছ থেকে দুর্ঘটনার খবর পান পরিবারের সদস্যরা। খবর পাওয়ার পরই বুধবার দুপুর আড়াইটা নাগাদ নেহা দেবী বড় ছেলে প্রিন্সকে সঙ্গে নিয়ে স্বামীর সন্ধানে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন। তবে এখনও পর্যন্ত নবীন সিংয়ের কোনও সন্ধান মেলেনি বলে দাবি পরিবারের।

    বর্তমানে বাড়িতে রয়েছেন নবীনের মেজ মেয়ে, সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী কোমল কুমার এবং ছোট ছেলে আরিয়ান সিং। পরিবারের সদস্যদের চোখেমুখে  আতঙ্কের ছাপ। তাঁদের দাবি, কিশোর বয়স থেকেই নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত নবীন সিং। ঠিকাদারের অধীনে কলকাতার ওই নির্মীয়মাণ কারখানাতেও তিনি কাজ করছিলেন।

    পরিবারের আরও দাবি, প্রায় ১৫ দিন আগে বাড়িতে এসেছিলেন নবীন। এক সপ্তাহ পরিবারের সঙ্গে কাটিয়ে ফের কর্মস্থলে ফিরে যান তিনি। তাঁর হাতে উলকি দিয়ে নিজের নাম লেখা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন পরিজনেরা, যাতে শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে সুবিধা হয়।

    কলকাতায় দুর্ঘটনার খবর রানিগঞ্জে পৌঁছতেই লাইকবাজার এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্যের খোঁজ না মেলায় কীভাবে চলবে সংসার, সেই চিন্তায় দিশেহারা পরিজনেরা। এখন সকলের একটাই প্রার্থনা—যত দ্রুত সম্ভব নবীন সিংয়ের সন্ধান মিলুক।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)