মাটি ও গাছ পাচারের অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৬ জুন ২০২৬
জমির মাটি কেটে বিক্রি এবং মূল্যবান গাছ পাচারের অভিযোগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় সরকারি খাস জমির মাটি কেটে ও কয়েক হাজার মেহগনি, সেগুন গাছ পাচারের পিছনে তাঁর মদত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় অভিষেক-সহ আরও ১১ জনের বিরুদ্ধে কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা এই মামলা করেছেন বলে খবর। আগামী ২৭ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলে জানিয়েছে আদালত। শুনানির আগে পুলিশকে তদন্ত সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ, নাকাশিপাড়ার ২৪ নম্বর মৌজায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে প্রায় ১১০০ বিঘা সরকারি খাস জমির লিজের মেয়াদ ২০২০ সালেই শেষ হয়ে যায়। এরপরও বেআইনিভাবে ওই জমি থেকে বিপুল পরিমাণ মাটি কেটে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। মামলাকারীদের দাবি, প্রায় সাড়ে ৪০০ বিঘা জমির মাটি সরিয়ে ফেলার ফলে সরকারি সম্পত্তির বড় ক্ষতি হয়েছে। শুধু মাটি নয়, কয়েক হাজার সেগুন ও মেহগনি গাছ কেটে পাচারের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ চললেও প্রশাসনের একাংশের নিষ্ক্রিয়তার কারণে কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাবের কথা বলে এলাকাবাসীকে ভয় দেখাতেন। অভিষেকের মদতেই এই কাজ চলত বলে অভিযোগ।
এই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও শাহজাহান শেখ, চাদু শেখ, হাফিজুল শেখ, হেসমত শেখ, সাইদুল শেখ, গোজলো শেখ, বিদ্যুৎ সরকার, সমীর প্রামাণিক, কিয়ামত শেখ এবং আরমান শেখের নাম রয়েছে। মামলায় আরও গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে যে, কাজের প্রলোভন দেখিয়ে আদিবাসী সম্প্রদায়ের কয়েকজন মহিলার উপর দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতন চালানো হতো। ভয়ে তাঁরা এতদিন প্রকাশ্যে অভিযোগ জানাতে পারেননি বলে মামলাকারীদের দাবি। উল্লেখ্য, এর আগেও ডায়মন্ড হারবার এলাকায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকার মাটি চুরির অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল। এবার নদিয়ার এই নতুন অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। মামলার তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই এখন নজর।