রাম মন্দিরে দানের টাকা চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ট্রাস্ট ঘনিষ্ঠ ৮ জনকে। আর এরপরই উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের (Yogi Adityanath) হুঙ্কার, সনাতন মূল্যবোধ নিয়ে যারা ছেলেখেলা করবে, তাদের ছেড়ে কথা বলা হবে না। পাশাপাশি বিরোধীদের উদ্দেশেও তাঁর কড়া বার্তা, রামভক্তদের সন্দেহ করা বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে তাঁর আবেদন, যদি কারও কাছে এই সংক্রান্ত প্রমাণ থাকে তবে তা বিশেষ তদন্তকারী দলের কাছে জমা করতে হবে।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা যাচ্ছে, দেওরিয়ায় এক জনসভায় যোগী বিরোধীদের উদ্দেশে বার্তা দিতে বলেছেন, ”অযোধ্যার দিকে কুনজর দেবেন না। রামের ভক্তদের পরীক্ষা করতে যাবেন না। প্রমাণ থাকলে তা সিটের কাছে জমা করুন।” সেই সঙ্গেই তিনি জানিয়েছেন, ”সিটের রিপোর্ট হাতে পেতেই সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকশন নেওয়া হয়েছে। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, সত্যকে মিথ্যার কবল থেকে উদ্ধার করবই।”
রাম মন্দিরে চুরির ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট। রিপোর্টে উঠে এসেছে, রামমন্দিরে নগদ প্রণামী জমা পড়েছে ৩,৫০০ কোটি টাকারও বেশি, সঙ্গে অগণিত সোনা-রুপোর গয়না৷ এই ধনরাশির একটা বড় অংশের কোনও হদিশ মিলছে না৷ নগদ টাকা এবং গয়নার পাশাপাশি মন্দিরের হেফাজত থেকে গায়েব দানে পাওয়া রুপোর তৈরি ভূষূণ্ডির কাকও৷
তদন্তে উঠে এসেছে, গোটা সিস্টেমে যে অব্যবস্থার কথা বলা হচ্ছে, সেই সিস্টেমে ঢুকে রয়েছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের লোকেরাই। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারা— ৩০৬, ৩১৬(৫), ৩১৭(৪), ৩১৭(৫), ৬১ এবং ৩(৫)-তে মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের প্রধান চম্পত রাই নিজেও কাঠগড়ায়। ৮ জনের গ্রেপ্তারির বিষয়টি সামনে আসতেই ইস্তফা দিয়েছেন তিনিও।