ধর্ম বদলে মুসলিম হলেই মিলবে না ওবিসি সংরক্ষণ! সাফ জানাল আদালত
প্রতিদিন | ২৬ জুন ২০২৬
ধর্মান্তরিতরা কোনওভাবেই সংরক্ষণের সুবিধা পেতে পারেন না। এটা অসাংবিধানিক। তামিলানাড়ুতে স্ট্যালিনের আমলের বিতর্কিত একটি ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত মামলায় তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ মাদ্রাজ হাই কোর্টের।
আসলে দেশের বহু রাজ্যে ওবিসি সংরক্ষণের আওতায় পড়েন পিছিয়ে পড়া মুসলিমরা। তামিলনাড়ুতে পূর্ববর্তী ডিএমকে সরকারের মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন নির্দেশিকা জারি করেন, যাঁরা নিচু জাতির হিন্দু তাঁরাও যদি ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম হন, তাহলে ওই ওবিসি সংরক্ষণের সুবিধা পাবেন। তামিলনাড়ু সরকারের ওই নির্দেশিকায় বলা ছিল, দলিত, মহাদলিত, তফসিলি জাতি এবং তফসিলভুক্ত নন এমন হিন্দুরাও যদি ইসলামে ধর্মান্তরিত হন, তাহলে তাঁদের অনগ্রসর মুসলিমদের তালিকাভুক্ত করা হবে এবং সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়া হবে।
মাদ্রাজ হাই কোর্টের বিচারপতি জি আর স্বামীনাথন এবং বিচারপতি পি বি বালাজির ডিভিশন বেঞ্চ স্ট্যালিন সরকারের ওই নির্দেশিকা খারিজ করে দিল। আদালতের সাফ কথা, ওই নির্দেশিকা অসাংবিধানিক। মাদ্রাজ হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বলছে, “কেউ যদি অনগ্রসর জাতি বা পিছিয়ে পড়া হিন্দু থেকে মুসলিম হন, তাহলে তিনি শুধুই মুসলিম হিসাবে গণ্য হতে পারেন। কোনওভাবেই তাঁকে পিছিয়ে পড়া মুসলিম বলা যাবে না। ধর্মান্তরিত মুসলিমদের অনগ্রসর তালিকাভুক্ত করাটা অসাংবিধানিক।”
বলে রাখা দরকার, বাংলায় তৃণমূল জমানায় প্রায় সমগ্র মুসলিম সমাজকে ওবিসি সংরক্ষণের আওতায় থাকলেও তামিলনাড়ুতে সব মুসলিম ওবিসির আওতায় আসেন না। মুসলিমদের সাতটি সম্প্রদায় ওবিসি সংরক্ষণের আওতায়। আদালত সাফ বলে দিল, তথাকথিত পিছিয়ে পড়া জাতির হিন্দুরা মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করলেও তারা কোনওভাবেই ওই ৭ সম্প্রদায়ের মধ্যে গণ্য হবেন না। আদালতের এই রায় ধর্মান্তকরণ রুখতে কার্যকরী হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। কারণ অনেকাংশেই ধর্ম বদলের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায় সরকারি সুযোগ সুবিধা।