১৭ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চাকরি বিক্রি! মারাত্মক অভিযোগ ফরাক্কার কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে
News18 বাংলা | ২৬ জুন ২০২৬
মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা সৈয়দ নুরুল হাসান কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এক অস্থায়ী কর্মীকে স্থায়ী করে দেওয়ার নাম করে বিপুল অঙ্কের টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠল। ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চাকরি স্থায়ী করার আশ্বাস দিলেও, প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীর। এই ঘটনার পর ফরাক্কা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কলেজেরই অস্থায়ী কর্মী ফিরোজ শেখ।
শুধু তাই নয়, একই প্রতিশ্রুতি দিয়ে কলেজের আরেক অস্থায়ী কর্মীর কাছ থেকেও সাত লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি। লিখিত অভিযোগে ফিরোজ শেখ জানিয়েছেন, চাকরি স্থায়ী করার আশ্বাস পেয়ে তিনি কয়েক ধাপে মোট ১০ লক্ষ টাকা অধ্যক্ষের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন কেটে গেলেও কাজ না হওয়ায় তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমিধ্যেই ফরাক্কা ও সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং কাল্পনিক বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ ড. ক্যাপ্টেন শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। পালটা দাবি করে তিনি বলেন, “আমি নিজেই ওই ব্যক্তিদের কলেজে অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজের সুযোগ করে দিয়েছিলাম। যদি সত্যিই তাঁরা টাকা দিয়ে থাকেন, তাহলে এতদিন চুপ ছিলেন কেন? আমি যখন অবসরের মুখে, ঠিক তখনই এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।”
অন্যদিকে, কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে যে, জাকির হোসেন নামে এক কর্মী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি দফতরে কলেজের প্রিন্সিপাল এবং খোদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা ভিত্তিহীন অভিযোগ জমা দিয়ে আসছিলেন। এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে গুরুতর শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং কলেজের সম্মানহানির চেষ্টা হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত কর্মী যতদিন না পর্যন্ত তার করা অভিযোগগুলোর সপক্ষে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক ও যথাযথ প্রমাণ পেশ করতে পারছেন, ততদিন তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে রাখা হবে।
এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে বলে কলেজ সূত্রে জানানো হয়েছে। ফরাক্কা থানার পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।