পুনের লোহাগড় দুর্গে ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের হত্যা মামলার তদন্তে সামনে এল তাঁর পরিবারের নয়া দাবি। নিহত কেতনের বাবার অভিযোগ, তাঁর ছেলের চুলে কিছু সমস্যা ছিল। সেই সমস্যাই কি তাঁর খুনের কারণ? এমনই প্রশ্ন উঠছে কেতনের বাবার দাবির পরে। তাঁর কথা অনুযায়ী, কেতনের চুল কম থাকার বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। সেই কারণেই এই কাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন সিয়া বলে অনুমান কেতনের বাবার। একইসঙ্গে তাঁর দাবি বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই জানত অভিযুক্ত সিয়া গোয়ালের পরিবার। জানানো হয়েছিল সিয়াকেও। শুক্রবার মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশের সঙ্গে সাক্ষাতের পরে এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন কেতনের বাবা বিশাল আগরওয়াল।
নিহত ব্যবসায়ীর পরিবারের দাবি, কেতন টাকের সমস্যার জন্য হেয়ার প্যাচ বা উইগ ব্যবহার করতেন— এই তথ্য সিয়ার পরিবার জানত। তাঁদের এ বিষয়ে কোনও আপত্তি না থাকায় সম্পর্কের কথা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে এই বিষয়টি নিয়েই আপত্তি তৈরি হয়েছিল বলে তাঁদের অভিযোগ। যদিও তদন্তকারী সংস্থা এখনও পর্যন্ত এই দাবিকে নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।
মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবীশের সঙ্গে সাক্ষাতের পরে কেতনের বাবা দাবি করেন, এটি শুধুমাত্র সম্পর্ক ভাঙার ঘটনা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত অপরাধ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘কেতন মাথার উপরে ছোট্ট একটা প্যাচ বা পরচুলা ব্যবহার করত। বাগদানের আগেই সিয়া ও তাঁর পরিবারকে এ বিষয়ে জানানোও হয়েছিল। যদি ওঁর কোনও আপত্তি থাকত, তবে তখনই বলে দিতে পারত। আমার ছেলেকে মেরে ফেলার কী দরকার ছিল?’ এ দিনও তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন।
কেতনের পরিবারের এই দাবিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অন্যদিকে তদন্তকারীদের কাছে সিয়ার দাবি, তিনি এই বিয়ে নিয়ে মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না এবং এই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গের পাহাড় থেকে হবু স্বামী কেতন আগরওয়ালকে ঠেলে ফেলে খুনের অভিযোগে সিয়া ও তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুনের গ্রামীণ পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে CCTV ফুটেজ, সিয়া-চেতনের কল রেকর্ডের মতো পারিপার্শ্বিক প্রমাণ রয়েছে। জেরায় অভিযুক্তরা তাঁদের দোষ স্বীকার করেছেন বলেও পুলিশের দাবি। তবে তাঁদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা শুরু হতেই তাঁরা এখন একে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছেন বলে জানা গিয়েছে।