• হেলমেট পরেও মিলল না রক্ষা...থানা থেকে বেরোতেই ডিম
    এই সময় | ২৬ জুন ২০২৬
  • হেলমেট পরিয়েছিল পুলিশ। সামনে ছিল ঢাল। তারপরেও রক্ষা মেলেনি। থানা থেকে বের করে আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে পরপর ডিম ছুড়ে মারা হলো অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা এবং তাঁর ছেলেকে। পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের ঘটনা। শুক্রবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করার আগে এই হামলা করেন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। চোর চোর স্লোগান তোলেন তাঁরা, সঙ্গে ছুড়ে মারা হয় ডিম। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার নাম শেখ আব্দুল লালন এবং তাঁর ছেলে শেখ আফজল রহমান ওরফে সঞ্জু শেখ। শেখ আবদুল লালন আউশগ্রাম ২ নম্বর ব্লক তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি।

    বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে ভোট পরবর্তী হিংসা, মারধর এবং লুটপাট চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ২০২১ সালের পরে তৎকালীন বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালানো, মারধর, লুঠপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। মহিলাদের শ্লীলতাহানি করার অভিযোগও রয়েছে ওই দু’জনের বিরুদ্ধে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আউসগ্রাম থানার অন্তর্গত ভুঁয়েরা গ্রামের বাসিন্দা ও বিজেপি কর্মী কিরণশঙ্কর হালদারের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিরণশঙ্করের অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের ফল বেরনোর পরে শেখ আব্দুল লালন ও তাঁর ছেলে শেখ আফজল রহমানের উপস্থিতিতে বাড়ি ভাঙচুর করেছিলেন তৃণমূল কর্মীরা। বাড়ির জিনিসপত্র ভাঙচুর,বাড়ির মহিলাদের অকথ্য গালিগালাজ-শ্লীলতাহানি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। বাড়ির পাশে থাকা কাপড়ের দোকানেও ভাঙচুর চালানো হয়েছিল। দোকান থেকে প্রায় ৭ লক্ষ টাকার জিনিসপত্র লুট করে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরেও লাগাতার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কিরণশঙ্কর।

    সেই সময়ে প্রাণের ভয়ে অভিযোগ না করলেও রাজ্যে পালাবদলের পরে, ১৯ কিরণশঙ্কর হালদার আউশগ্রাম থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের তদন্তে নেমে আউশগ্রাম থানার পুলিশ কলকাতা থেকে শেখ আবদুল লালন ও তার পুত্র শেখ আফজল রহমানকে গ্রেপ্তার করে। এ দিন আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন তাঁরা।

  • Link to this news (এই সময়)