• এবার চুঁচুড়া পুরসভায় চেয়ারম্যানের পদত্যাগ
    আজকাল | ২৭ জুন ২০২৬
  • মিল্টন সেন: ভাইস চেয়ারম্যান-সহ পদত্যাগ করলেন হুগলি চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান। মাত্র ছয় মাস স্থায়ী হল না প্রাক্তন তৃনমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার ঘনিষ্ঠ চেয়ারম্যানের মেয়াদ। পদত্যাগের পর চেয়ারম্যানের দাবি, অপমান সহ্য করে তাঁদের পক্ষে কাজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। পাল্টা, কেলেঙ্কারি এড়িয়ে রাজনৈতিক সুবিধে পেতে ইস্তফা, অভিযোগ বিজেপি নেতার। 

    প্রশাসনিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন হুগলি চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমিত্র ঘোষ এবং ভাইস চেয়ারম্যান পার্থ সাহা। একইসঙ্গে কাউন্সিলর পদ থেকেও তাঁরা ইস্তফা দেন। পুরসভা সূত্রে খবর, এদিন পুরসভায় কাউন্সিলরদের বোর্ড মিটিং ছিল। সেই মিটিংয়েই ইস্তফা দেন চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান। সেই ইস্তফার প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে সদর মহকুমা শাসককে। 

    ২০২২ সালে পুরসভা নির্বাচনে চুঁচুড়া পুরসভার ৩০টি আসনের মধ্যে ২৯ টিতেই জয়লাভ করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ১টি আসনে জয়ী হয় সিপিএম। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয় অমিত রায়কে। ভাইস চেয়ারম্যান হন পার্থ সাহা। পরবর্তী সময়ে লোকসভা নির্বাচনে চুঁচুড়া পুরসভা এলাকায় প্রায় সারে আট হাজার ভোটে পিছিয়ে পরে তৃনমূল। 

    এরপরই দলের নির্দেশে গত বছর ১১ই ডিসেম্বর অমিত রায়কে চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে সৌমিত্র ঘোষকে সেই পদে বসানো হয়। অনেক যোগ্য কাউন্সিলররা আশাহত হয়েছিলেন। তৃনমূলের অন্দরে খবর ছিল টাকার বিনিময়ে তখন চেয়ারম্যান পদ বদল হয়েছিল। যদিও এখন তা প্রকাশ্যে আর কেউ স্বীকার করে না। এবার সেই পদ থেকেই সরে দাঁড়ালেন সৌমিত্র ঘোষ। 

    পাশাপাশি ইস্তফা দেন পার্থ সাহা। পদত্যাগ করার পর তাঁরা জানিয়েছেন, তাঁদের পক্ষে নাকি অপমান সহ্য করে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। পদে থেকেও তাঁরা সেভাবে কোনও কাজ করতে পারছিলেন না। পাশাপাশি তাঁরা বলেন, বিজেপির তরফ থেকে তাঁদের ফাঁসানো হয়েছিল। তাঁদের জেল খাটানো হয়েছে। এর ফলে মানসিকভাবে তাঁরা ভেঙ্গে পড়েছেন। সামাজিক, পারিবারিক মান সম্মান নষ্ট হয়েছে। তাদের সম্পর্কে বিভ্রান্তকর তথ্য রটানো হচ্ছে। সেগুলি ঠিক নয়। তাই প্রশাসনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন। 

    রাজ্যে পালাবদলের পর প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদারের নেতৃত্বে চুঁচুড়া পিপুলপাতি মোড়ে বিক্ষোভে সামিল হয়েছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই বিক্ষোভের সময় তাদের পুলিশের সঙ্গে বচসা এবং ধাক্কাধাক্কি হয়। বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলের সৌমিত্র ঘোষ, পার্থ সাহা-সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা। ওই ঘটনায় বেআইনি ভাবে রাস্তা অবরোধ, পুলিশের কাজে বাধা-সহ একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল প্রাক্তন বিধায়ক-সহ ১০ জনকে। জেলবন্দী ছিলেন সকলেই। সৌমিত্র ও পার্থ দুজনেই অসিত মজুমদার ঘনিষ্ঠ।রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর জেলার একাধিক পুরসভা এবং পুরনিগমের চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যান এবং কাউন্সিলররা পদত্যাগ করছেন। কাজ করতে পারছে না এমন অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করছেন তৃণমূলের জন প্রতিনিধিরা। চুঁচুড়া পুরসভাতেও আগে দুই কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন। এবার চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যানও ইস্তফা দিলেন। পরবর্তী চেয়ারম্যান কে হয় সেটাই এখন দেখার। 

    এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা সপ্তর্ষি ব্যানার্জি বলেছেন, "ভয় অপমান এসব অজুহাত। ওনারা যদি দুর্নীতি বা অপরাধমূলক কাজ কিছু না করে থাকেন তাহলে ভয় কীসের। আর অপমান হল ওদের দলীয় কোন্দলের অংশ। পুরসভার অন্দরে ওদের দলের একাধিক গোষ্ঠী। তাদের মধ্যে নানান দ্বন্দ্ব রয়েছে। তাই বারবার চেয়ারম্যান বদল হয়। তাছাড়া বাসিন্দারাও অখুশি। দীর্ঘ সময় ধরে নাগরিক পরিষেবা সম্পূর্ণই স্তব্ধ হয়ে আছে। পুর এলাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ আসছে। নূন্যতম পরিষেবা মিলছে না। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, পরিষেবা কোথাও কোনও ভাবে যাতে ব্যাহত না হয়। এছাড়াও পুর কর্মীদের বকেয়া নিয়ে সমস্যা রয়েছে। ক্ষুব্ধ পুরসভার অস্থায়ী কর্মীরা। এইসব নানা কেলেঙ্কারির কারণে পদত্যাগ করে, রাজনৈতিক সুবিধে পেতে অন্যের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে। মানুষ বোকা নয়, সবাই সবটা বুঝতে পারছে।"
  • Link to this news (আজকাল)