আজকাল ওয়েবডেস্ক: তারাতলা বিপর্যয়ের পর বৃহস্পতিবার বিধানসভায় নাম উল্লেখ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর ওই রাতেই তোলাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি কালীচরণ ব্যানার্জিকে। শুক্রবার তাঁর ৪ঠা জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ মঞ্জুর হয়েছে।
সরকারি চাকরিতে চমকপ্রদ উত্থান এই কালীচরণের। চাকরির পরীক্ষাতেও বরাবরই তুখোড় রেজাল্ট মেধাবী এই ছাত্রের। যে পরীক্ষাই দিয়েছেন, তাতেই সফল কালী।
চাকরির পরীক্ষায় কালীর রেজাল্ট:
* ২০০৩ সালে রেভিনিউ সার্ভিসে নিয়োগ কালীচরণ ব্যানার্জির। * ২০০৬ সালে ডব্লিউবিসিএস এক্সিকিউটিভ পরীক্ষায় দ্বিতীয়|। * পুলিশের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম। ২০০৮ সালে পুলিশের কাজে যোগদান।* ২০০৯ সালে মিউনিসিপাল সার্ভিস কমিশনের ডেপুটি ম্যানেজারের পরীক্ষায় প্রথম।
তারাতলা দুর্ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিশানা করেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে। এর মাঝেই উঠে আসে আরও এক নাম, 'কালী'। তাঁর নামের সঙ্গেই জুড়ে যায় অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের নামও। তারপর থেকেই জোর গুঞ্জন, কে এই কালী? কীভাবে ফিরহাদের কাছাকাছি এলেন তিনি?
ফিরহাদ-কালী ঘনিষ্ঠতা:
সূত্রের খবর, ২০০৯ সালে মিউনিসিপাল সার্ভিস কমিশনের ডেপুটি ম্যানেজারের পরীক্ষায় প্রথম কালীচরণ ব্যানার্জি শুরুতেই নিয়োগ পান কলকাতা পুরনিগমের ৯ নম্বর বরোতে।সেই সময়ে ওই বোরোর চেয়ারম্য়ান ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। সেই সূত্রেই যোগাযোগ তাঁদের। ক্রমেই ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। ফিরহাদের কাছে নিজেকে প্রমাণ করেন কালীচরণ ব্যানার্জি।
২০১৮ সালে ফিরহাদ হাকিম কলকাতার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পান। এরপরই আস্থাভাজন সরকারি আধিকারিক কালীকে তিনি নিজের ওএসডি পদে বসান।সেই থেকেই মেয়র ফিরহাদ হাকিমের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সব ফাইল পৌঁছত কালীর মাধ্যমেই।
কালীর বিরুদ্ধে ক্যামাক স্ট্রিট:
কালীচরণ ব্য়ানার্জিকে নিশানা করেছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাদারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির ক্যামাক স্ট্রিটের দপ্তরও। অভিষেকের নাম তুলে তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছিল কালীর বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কালীর বিরুদ্ধে শেক্সপিয়র সরণি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিল সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জির অফিস।
রাজ্যপাটে বদলেছে। শেষপর্যন্ত রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রীর মুখেও কালীচরণের নাম। তারাতলা কাণ্ডের পরদিনই গ্রেপ্তারও করা হয় তাঁকে।