ছাঁচ ছাড়া হাতের চাপে তৈরি রঙিন সংসার, প্রাচীন এই শিল্প দেখাতে পারে নয়া কর্মসংস্থানের দিশা
News18 বাংলা | ২৭ জুন ২০২৬
রাঢ় বাংলার মাটির গন্ধে ভরা ঐতিহ্যের মধ্যে অন্যতম হল টেরাকোটা শিল্প, আর সেই ধারারই এক অনন্য সৃষ্টি টেপা পুতুল। একসময় বাঁকুড়ার গ্রামেগঞ্জে মেলা মানেই ছিল এই পোড়ামাটির পুতুলের রঙিন সম্ভার। হাতি-ঘোড়ার পাশাপাশি টেপা পুতুল ও তার সংসারের নানা উপকরণ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন বহু শিল্পী পরিবার। কিন্তু সময়ের পরিবর্তন ও আধুনিকতার চাপে আজ এই প্রাচীন শিল্প ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে।
“টেপা পুতুল” মূলত হাত দিয়ে মাটি চেপে তৈরি করা ছোট ছোট পুতুল, যেখানে ফুটে ওঠে গ্রামীণ জীবনের সহজ সরল ছবি। কখনও দেখা যায় মা-বাবা, কখনও রান্নাঘরের দৃশ্য, আবার কখনও গৃহস্থালির নানা উপকরণ। সম্পূর্ণ হাতে গড়া এই পুতুলে নেই কোনও ছাঁচের ব্যবহার, ফলে প্রতিটি সৃষ্টি আলাদা ও স্বতন্ত্র। এই শিল্প শুধু বিনোদনের উপকরণ নয়, বরং গ্রামীণ সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।
এই হারিয়ে যেতে বসা শিল্পকে নতুন করে বাঁচিয়ে তুলতে গোটা বাঁকুড়া জেলা জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় উদ্যোগ নেওয়া হয়। করা হয় কর্মশালা। তবে এই টেপা পুতুল নিজের পুরনো গরিমা খুঁজে পায় না। যখন ছিল না কোনও টেকনোলজি, ছিলনা প্লাস্টিকের রমরমা, তখন এই টেপা পুতুল ব্যবহার করেই খেলা করত শিশুরা। বাংলার এই ঐতিহ্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে বাঁকুড়ার বুক থেকে। শিল্পী জানান,”এই শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে হবে! কি করে মাটি নির্বাচন করতে হয়। কি করে খুব অনায়াসে বানিয়ে ফেলা যায়, সেসব শেখাতে হবে।”
স্থানীয়দের মতে, একমাত্র নতুন প্রজন্মের উদ্যোগই পারে হারিয়ে যাওয়া লোকশিল্পকে নতুন জীবন দিতে। টেপা পুতুল পুনরুদ্ধার করার কর্মশালার মাধ্যমে শুধু শিল্প রক্ষা নয়, ভবিষ্যতে নতুন কর্মসংস্থানের পথও খুলে যেতে পারে। এই পুতুল সাধারণ দোকান বা অনলাইনে খেলনা বা ঘর সাজানোর সামগ্রী হিসেবে বিক্রি করা যেতে পারে। যা স্বনির্ভর হতে সাহায্য করবে। বাঁকুড়ার মাটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা “টেপা পুতুল” তাই আবারও নতুন করে ফিরে আসার আশায় বুক বাঁধবে।