খাবারের মান নিয়ে একাধিক অভিযোগের জেরে বনগাঁ শহরের বিভিন্ন হোটেল ও বিরিয়ানির দোকানে যৌথ অভিযান চালাল খাদ্য সুরক্ষা দফতর, বনগাঁ পৌরসভা এবং পুলিশ প্রশাসন। বিশেষ নজর দেওয়া হয় বিরিয়ানির দোকানগুলিতে। চাকদহ রোড ও যশোর রোড সংলগ্ন একাধিক দোকান থেকে খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে পরীক্ষার জন্য। অভিযানের সময় মতিগঞ্জ এলাকার একটি বিরিয়ানির দোকানের খাবারের মান নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় সেটি সিল করে দেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা।
বনগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ মজুমদার জানান, মোট ছ'টি বিরিয়ানির দোকানে অভিযান চালানো হয়েছে। বিভিন্ন খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তাঁর কথায়, সম্প্রতি বেশ কয়েকজন ক্রেতা খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়। মতিগঞ্জের একটি দোকানে খাবারের গুণগত মান নিয়ে সন্দেহ দেখা দেওয়ায় সেটি আপাতত সিল করে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ, বিরিয়ানির স্বাদ ও রং আকর্ষণীয় করতে কিছু দোকানে ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। পাশাপাশি, বেশ কিছু হোটেলে দীর্ঘদিন ফ্রিজে রাখা খাবার পুনরায় বিক্রির অভিযোগও সামনে এসেছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও পশ্চিমবঙ্গে ‘ভাগাড় কাণ্ড’-এর পর বনগাঁর বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালানো হয়েছিল। সেই সময় একাধিক হোটেল সিল করা হয় এবং কয়েকজন হোটেল মালিককে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। গত কয়েক বছরে বনগাঁ শহরে বিরিয়ানির দোকানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই সঙ্গে খাবারের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সম্প্রতি বিজেপির কালচারাল সেলের পক্ষ থেকে বনগাঁ পৌরসভার কাছে শহরের হোটেল ও বিরিয়ানির দোকানগুলির খাবারের মান পরীক্ষা করার আবেদন জানানো হয়েছিল। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই এই অভিযান বলে জানা গিয়েছে।