• নাগরাকাটা-পশ্চিম মেদিনীপুরে শুরু ১০০ দিনের কাজ, খুশির হাওয়া শ্রমিক মহলে
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৭ জুন ২০২৬
  • দীর্ঘ আট বছরের প্রতীক্ষার অবসান হলো। শুক্রবার থেকে নাগরাকাটা ব্লকে আবার শুরু হলো ১০০ দিনের কাজ। এই প্রকল্পের নতুন নাম ‘বিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন’ (ভিবি-জিরাম জি)। এই প্রকল্পের অধীনে সুলকাপাড়া, লুকসান এবং আংরাভাসা—এই তিন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় কাজ শুরু হয়েছে। আবার দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনি ব্লকের পাথরি এলাকায় ভিবি-জিরাম জি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন সেখানের অতিরিক্ত জেলাশাসক সুকান্ত সাহা। একদা মাওবাদী উপদ্রুত জঙ্গলমহলের এই এলাকায় নিজে হাতে মাটি কেটে প্রকল্পের সূচনা করেন তিনি। উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই জেলার ২০০টির বেশি পঞ্চায়েত এলাকায় কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।

    এদিকে শুক্রবার সুলকাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সুখানী বস্তিতে প্রকল্পের উদ্বোধন করেন নাগরাকাটার বিধায়ক পুনা ভেংরা 

    বিডিও জয়প্রকাশ মণ্ডল। কাজের সূচনায় পুজো পাঠের পর বিধায়ক স্পষ্ট করেন, আগের সরকারের আমলে এই প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। এবার সেটা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। বিধায়ক পুনা ভেংরা বলেন, ‘কেউ যেন এমনটা না ভাবেন যে বেঙ্গালুরুতে বসে থাকবেন আর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে যাবে। প্রকৃত শ্রমিকদের হাতেই প্রাপ্য মজুরি পৌঁছে দেওয়া হবে। আর এটাই সরকারের মূল লক্ষ্য।’

    অন্যদিকে প্রশাসন সূত্রে খবর, জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের কথা মাথায় রেখেই পাথরি এলাকাকে কর্মসূচি উদ্বোধনের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। এই অঞ্চলের মানুষের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস ছিল ১০০ দিনের কাজ। বহুদিন প্রকল্প বন্ধ থাকায় একাধিক পরিবার আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছিল। অতিরিক্ত জেলাশাসক বলেন, ‘এই প্রকল্পের মাধ্যমে এখানের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষজন উপকৃত হবেন।’

    তাছাড়া উত্তরবঙ্গে অবস্থিত নাগরাকাটা প্রশাসন সূত্রে খবর, এবার কাজের ক্ষেত্রে কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে। শুধুমাত্র ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন জব কার্ডধারী শ্রমিকরাই কাজ পেয়ে থাকবেন। ন্যাশনাল মোবাইল মনিটারিং সিস্টেম অ্যাপের মাধ্যমে দিনে তিনবার শ্রমিকদের ছবি তুলে তা আপলোড করা হবে। এখন অদক্ষ শ্রমিকদের দৈনিক ২৬০ টাকা মজুরি ধার্য করা হয়েছে। যা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। ১২৫ দিনের কাজ পাবেন সকলে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ বঙ্গের যেমন উন্নয়ন ঘটানো হবে তেমন এই কাজের সঙ্গে যুক্তদের কর্মসংস্থান এবং আয় বাড়বে। যা গ্রামীণ বাংলার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বদলে দেবে। এমনটাই মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)