যে ধরনের কথাবার্তা বলা হয়, একেবারে উচিত নয়', মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে কী বললেন রূপা গাঙ্গুলি
আজকাল | ২৬ জুন ২০২৬
নতুন বাংলা ছবি 'শুরু থেকে শুরু'-তে অভিনয় করতে দেখা যাবে বিধায়ক অভিনেত্রী রূপা গাঙ্গুলিকে৷ ছবির ঘোষণা অনুষ্ঠানে বর্তমান সময় রাজ্য রাজনীতি প্রসঙ্গে কথা বলার সূত্রে রূপা গাঙ্গুলি নিজের অভিমত ব্যক্ত করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে।
রূপা গাঙ্গুলি বলেন, "যখন বিরোধী ছিলাম তখনও বলেছি, আজ সরকারে দাঁড়িয়ে বলছি যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্কে যে ধরনের কথাবার্তা বলা হয়, ওঁর যে ধরনের ছবি পোস্ট করা হয়, এটা উচিত নয়। এটা একেবারেই উচিত নয়৷ এটা পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি হতে পারে না।"
রূপা বলেন, "উনি তিনবারের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, ওঁর রাজনৈতিক দলের ভাঙন অবশ্যম্ভাবী ছিল৷ দল ভেঙে গেছে কি না গেছে, সেগুলো আলাদা বিষয়। আদর্শ ছিল না তাই এটা হওয়ার ছিল। প্রথম বছরের পর থেকে উনি দলকে সামলে রাখতে পারেননি৷ তারপর উনি নির্বাচনে জেতার এমন কাজ করেছেন, যার ফলে দলে অনেক বেনো জল ঢুকে গিয়েছিল, উনি দলকে কন্ট্রোল করতে পারেননি এটা অন্য বিষয়। কিন্তু উনি মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী এটাও সত্যি কথা৷ ওঁর সম্বন্ধে সমঝে, বুদ্ধি করে, সম্মানের সঙ্গে কথা বলতে আমরা বাধ্য। আমরা পশ্চিমবঙ্গবাসী নিজেকে এমন কোনো জায়গায় নিয়ে যেতে পারি না যেখানে পশ্চিমবঙ্গের বাইরের লোক আমাদের খারাপ ভাববে, ঠাট্টা করবে। আমি এসব ব্যাপারে খুব উদ্ভট।"
"রাজনীতি তো আমি করতেই এসেছি শুধু সমাজে মানুষের জন্য ভাল করবার জন্য। আমি তার আগে প্রচুর সোশ্যাল ওয়ার্ক করেছি। তখন এইসব সোশ্যাল মিডিয়া হয়নি। সোনারপুর দক্ষিণের মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ যে তারা এই পরিশ্রম করার জন্য আমাকে দায়িত্বটা দিয়েছে।"
রূপা গাঙ্গুলি বলেন, "আগেও আমি বলতাম যে ময়লা করবেন না, বাইরে ময়লা দুমদাম গাড়ি থেকে, বাস থেকে, চলছেন, হাঁটছেন, ফিরছেন, খাচ্ছেন, ফেলে দিচ্ছেন, এটা করবেন না। তখনও মানুষকে আমি একই সতর্কবার্তা জানাতাম, যেখানে সুযোগ পেতাম। আজও তাই বলছি। কারণ যারা ময়লাটা পরিষ্কার করছে, যারা ড্রেনটা পরিষ্কার করছে তারাও মানুষ। তারাও আপনার আমার মতো রক্তমাংসে গড়া মানুষ। তারা আপনার ফেলা ময়লা তারা ড্রেনটা থেকে তুলছে। যতই হাতে গ্লাভস থাক না কেন। তো সেটাও তো ভাবতে শিখতে হবে মানুষকে।"
রূপা গাঙ্গুলি আরও বলেন, "এক-দু মাসে ৫০ বছরের ঘাঁটা মানসিক এবং সাংস্কৃতিক এবং ব্যবহারিক যে দুরবস্থা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জীবনযাপনের মধ্যে হয়েছে, সেটা কিছুতেই এক-দু মাসে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এই সময়টুকু মানুষের কাছ থেকে আমরা আবেদন করছি, চাইছি।