• তারাতলার দুর্ঘটনায় দেহ ক্ষতবিক্ষত, আংটি দেখে ঘরের লোককে চিনল পরিবার
    এই সময় | ২৭ জুন ২০২৬
  • তারাতলার দুর্ঘটনায় আরও এক মৃত্যু জেলায়। নিহতের নাম সুমন কর্মকার (৩৭)। উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরের রথতলা এলাকার বাসিন্দা তিনি। খোঁজ মিলছিল না তাঁর, তারপরে আঙুলের আংটি দেখে শনাক্ত করা হয় দেহ। পরিবার জানিয়েছে, ৫ দিনের জন্য কাজে গিয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে গিয়েছিলেন। শনিবার বাড়ি ফেরার কথা ছিলো। কিন্তু, বুধবার রাতেই পরিবার জানতে পারে দুর্ঘটনার কথা।

    অবশেষে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পরিবারের কাছে খবর আসে যে সুমন মারা গিয়েছেন। দুঃসংবাদ পৌঁছতেই পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী ও সন্তানেরা। স্ত্রী শিখা কর্মকার বলেন, বুধবার ওঁর কন্ট্রাক্টর অন্য লোক দিয়ে বাড়িতে খবর পাঠিয়েছিল। আমি রাতে গিয়েছিলাম, সারা রাত স্পটে ছিলাম। ভোর রাতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। আমি যখন গিয়েছিলাম তখন ওঁকে দেখেনি। বাকিদের দেহ মিলেছিল, আমার স্বামীর খোঁজ পাইনি। পরে বৃহস্পতিবার ওরা বলল দেহ পাওয়া গিয়েছে।

    পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনায় দেহ এতটাই ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছিল যে প্রথমে তাঁকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে হাতের আঙুলে থাকা আংটি দেখে বাড়ির লোক তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করেন। স্ত্রী শিখা বলেন, আমায় ঢুকতে দেয়নি। ওঁর একটা বালা পরা ছিল। হাতে কার ছিল। সবুজ রঙের চেক গেঞ্জি ছিল। ওগুলি দেখে আমার দেওর চিনতে পেরেছে।

    সুমনের মৃত্যুতে অসহায় হয়ে পড়েছে তাঁর পরিবার। ছোট সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শ্যামনগরের রথতলা এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তাঁদের বাচ্চাদের ভবিষ্যতটুকু যেন সরকার দেখে, আকুল আবেদন স্ত্রী শিখা কর্মকারের।

  • Link to this news (এই সময়)