• কেন্দ্র-রাজ্যের ডাবল ইঞ্জিনে কলকাতায়‘ ওয়াটার মেট্রো’, কোন পথে চলবে? জেনে নিন রুট ও আরও তথ্য
    এই সময় | ২৭ জুন ২০২৬
  • স্বাধীনতার পরে এই প্রথম বাংলায় সরকার গঠন করেছে বিজেপি৷ ৯ মে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-সহ একঝাঁক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী৷ এর পর থেকেই কেন্দ্র-রাজ্য সহযোগিতায় বাংলায় একের পর এক উন্নয়নমুখী প্রকল্পের পথ চলা শুরু হয়েছে৷ আরও এক ঝাঁক প্রকল্প পাইপ লাইনে আছে বলেই দাবি সরকারি সূত্রের৷ এর মধ্যে নবতম সংযোজন ‘ওয়াটার মেট্রো৷’

    দিল্লিতে সরকারি সূত্রের দাবি, ডাবল ইঞ্জিন সরকারের ঘোষিত নীতি মেনেই এ বার বাংলায় শুরু হবে ‘ওয়াটার মেট্রো’ প্রকল্প৷ কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে ‘ওয়াটার মেট্রো’ প্রকল্প পরিচালিত হবে রাজ্য সরকারের সক্রিয় সহযোগিতায়৷

    প্রাথমিক সিদ্ধান্তে বাংলায় ‘ওয়াটার মেট্রো’ পরিচালনার জন্য বাছা হয়েছে বাবুঘাট, প্রিন্সেপ ঘাট, বেলুড় মঠ, দক্ষিণেশ্বর, শোভাবাজার, বাগবাজার, হাওড়া স্টেশন, শালিমার এবং শ্রীরামপুরকে, এমনই দাবি সরকারি সূত্রের৷ এর সঙ্গে হুগলি নদীর তীরবর্তী আরও বেশ কয়েকটি জায়গা সংযোজিত হতে পারে৷

    পর্যটন, শিল্প-বাণিজ্য, বন্দর-জাহাজ ও জলপথ পরিবহণ, স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা এবং অর্থ- মোট ৬টি মন্ত্রক একযোগে তৈরি করছে বাংলার ‘ওয়াটার মেট্রো’ পরিকল্পনার খসড়া৷ দিল্লিতে সরকারি সূত্রের দাবি, প্রকল্পের ডিপিআর (ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট) তৈরির কাজ শুরু হবে কিছুদিনের মধ্যেই৷

    তাত্‍পর্যপূর্ণ হলো, তৃতীয় মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার কিছুদিনের মধ্যেই ভাবা হয়েছিল, অসম এবং জম্মু-কাশ্মীরে শুরু হবে ‘ওয়াটার মেট্রো’ প্রকল্প৷ পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশে ‘ওয়াটার মেট্রো’ প্রকল্পের তালিকায় সংযোজিত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নাম, এমনই দাবি সরকারি সূত্রের৷

    কলকাতার ক্রমবর্ধমান যানজট দূর করার ক্ষেত্রে এই ‘ওয়াটার মেট্রো’ অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছে সরকারের শীর্ষস্তর৷

    এই মর্মেই প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে বাংলার প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের আকর্ষণ৷ গত বছরেই পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৩২ লক্ষ বিদেশি পর্যটক এসেছিলেন৷ পরিসংখ্যানের বিচারে বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ভারতীয় রাজ্যের মধ্যে মহারাষ্ট্রের পরেই পশ্চিমবঙ্গের স্থান৷

    এই অবস্থায় তিলোত্তমা কলকাতাকে কেন্দ্র করে প্রস্তাবিত ‘ওয়াটার মেট্রো’ প্রকল্প একদিকে যেমন বাংলার জৌলুস বৃদ্ধি করবে, অন্যদিকে বিদেশি মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে, এমনটাই মনে করছে কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ স্তর৷

    ‘ওয়াটার মেট্রো’কে ভিত্তি করে পরবর্তী কালে দুর্গোত্‍সবকেও গোটা বিশ্বের সামনে আরও আকর্ষণীয় ভাবে উপস্থাপিত করার কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রক৷

    বাংলার পাশাপাশি অসম এবং জম্মু-কাশ্মীরের জন্যও ‘ওয়াটার মেট্রো’ প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হচ্ছে৷ জম্মু-কাশ্মীরে ‘ওয়াটার মেট্রো’ প্রকল্প শুরুর জন্য প্রাথমিক ভাবে শ্রীনগরকে বাছা হয়েছে, যেখানে ঝিলম এবং ডাল লেককে ভিত্তি করেই এই প্রকল্পের প্রস্তাবনা করা হচ্ছে৷

    সরকারি সূত্রের দাবি, প্রস্তাবিত প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হবে ঝিলমের তীরে অবস্থিত পান্থা চক, জ়িরো ব্রিজ, আমির কদল, মহারাজগঞ্জ এবং সুম্বলকে৷ একইরকম ভাবে ডাল লেকের ধারে অবস্থিত নেহরু পার্ক, নিশাত গার্ডেন, শালিমার বাগ এবং হজরতবাল দরগাকেও রাখা হচ্ছে এই তালিকায়৷

    অসমের ওয়াটার মেট্রো প্রকল্পের প্রস্তাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে গুয়াহাটি শহর এবং ব্রহ্মপুত্র, যেখানে উজান বাজার থেকে শুরু করে পলাশবাড়ি পর্যন্ত ‘ওয়াটার মেট্রো’ প্রকল্প শুরুর কথা ভাবা হয়েছে৷

  • Link to this news (এই সময়)