• ধর্মান্তকরণ রুখতে আসছে কড়া আইন, সীমান্ত সুরক্ষায় জোর মুখ্যমন্ত্রীর
    eTV Bharat | ২৭ জুন ২০২৬
  • কলকাতা, 26 জুন: রাজ্যের ক্ষমতার পালাবদলের পর নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস নয়- এই বার্তা আরও একবার স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার কলকাতার রবীন্দ্র সদনে বন্দেমাতরমের দেড়শো বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের এই মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই একাধিক বার্তা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আলোড়ন ফেলেছে। ধর্মান্তকরণ রুখতে রাজ্য় সরকার কড়া আইন আনছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী ৷

    সীমান্ত সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, "আমরা ক্ষমতায় আসার পর বিএসএফের হাতে প্রয়োজনীয় সীমান্তভূমি তুলে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও সীমান্ত পাহারার জন্য আরও জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এখনও চলছে।" তাঁর কথায়, "ক্ষমতায় আসার পর আমাদের প্রথম লক্ষ্যই ছিল পশ্চিমবঙ্গকে সুরক্ষিত করা। জাতীয় সুরক্ষা যেভাবে বিপন্ন হচ্ছিল, সেখান থেকে আমরা আমাদের দেশ এবং এই বঙ্গভূমিকে বাঁচাতে চেয়েছি।"

    অনুপ্রবেশ রোখার প্রশ্নে রাজ্য সরকার যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, তা-ও তুলে ধরেন তিনি। সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে 'হোল্ডিং স্টেশন' তৈরি করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। খোলা সীমান্ত পেরিয়ে রাজ্যে ঢুকে পড়া অনুপ্রবেশকারীদের সেখানে রেখে তাদের নিজেদের উৎস স্থানে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, আগামিদিনে ভূমি জিহাদ ও লাভ জিহাদের বিরুদ্ধে কড়া আইন প্রণয়নের কথাও এ দিন ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা, "চৈতন্যদেব, নেতাজি, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মাটিতে এই সব হবে না। জমি জেহাদ, লাভ জেহাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন আনা হবে।"

    অনুষ্ঠানে শুভেন্দু শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের 'এক দেশ, এক প্রধান, এক বিধান, এক নিশান' স্লোগানকেই রাজ্য পরিচালনার মূল দর্শন হিসেবে তুলে ধরেন। জানান, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করা বিজেপি সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ৷ সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকার অটল বলেও জানান তিনি।

    তবে অনুপ্রবেশকারী এবং শরণার্থীকে একনজরে দেখতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী। ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে যাঁরা বাংলাদেশ বা অন্যত্র থেকে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁরা অনুপ্রবেশকারীর তকমা পাবেন না বলে স্পষ্ট করেন তিনি। শুভেন্দুর বক্তব্য, "ধর্ম বাঁচানোর জন্য বা নিজের পরিচয়কে বাঁচানোর জন্য ওপার থেকে যারা এসেছেন, তাঁরা অনুপ্রবেশকারী নন।" কেন্দ্রের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন অর্থাৎ সিএএ-র আওতায় এই শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া চলবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    অপারেশন সিন্দুর এবং পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, যারা দেশকে অপমান করে, সেনা অভিযানকে হেয় করে, তাদের বাংলার মাটিতে কোনও ঠাঁই নেই। রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সরকার যে কোনও পরিস্থিতিতে কঠোর থাকবে — এই বার্তাই বারবার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

    রবীন্দ্র সদনের অনুষ্ঠান শেষে ভবানীপুরে একটি বিজেপি দলীয় কার্যালয়ের উদ্বোধনও করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি জানান, এই কার্যালয় থেকে প্রতিদিন সাধারণ মানুষ পরিষেবা পাবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আরএসএসের মঞ্চ থেকে এত বড় ঘোষণা আসলে রাজ্যের নতুন সরকারের মতাদর্শগত অবস্থানকেই সুস্পষ্ট করে দেয়।
  • Link to this news (eTV Bharat)