• যাদবপুরে নিয়োগে অস্বচ্ছতা থেকে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে বেনিয়ম, রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ চাইল সঙ্ঘের শিক্ষক সংগঠন
    eTV Bharat | ২৭ জুন ২০২৬
  • কলকাতা, 26 জুন: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক, আর্থিক ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে রাজ্যপাল তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য আরএন রবির হস্তক্ষেপ চাইল অখিল ভারতীয় জাতীয় শিক্ষিক মহাসংঘ (এবিআরএসএম)-র যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

    শুক্রবার রাজ্যপালের কাছে পাঠানো একটি বিশদ স্মারকলিপিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও ভারপ্রাপ্ত ফিনান্স অফিসারের মেয়াদ বৃদ্ধি থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক নিয়োগ প্রক্রিয়া, শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে আরএসএসের এই শিক্ষক সংগঠনটি।

    এবিআরএসএমের বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী কোনও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বা ভারপ্রাপ্ত ফিনান্স অফিসারকে 6 মাসের বেশি ওই পদে রাখা যায় না। কিন্তু সেই বিধি উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী পরিষদ (ইসি) সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের আরও 6 মাসের জন্য বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বেআইনি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধিকে অগ্রাহ্য করেই তা করা হয়েছে।

    এবিআরএসএমের সদস্য বুদ্ধদেব সাউ অভিযোগ করেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরেই একের পর এক অনিয়ম হয়ে আসছে। তাঁর দাবি, গত 15 বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় স্ট্যাটিউট তৈরি করা হয়নি। সেই কারণেই এতদিন শিক্ষক প্রতিনিধিদের নির্বাচনও হয়নি। কিন্তু হঠাৎ করেই বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে স্ট্যাটিউট ছাড়াই শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়। তাঁর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী স্ট্যাটিউট ছাড়া এই ধরনের নির্বাচন হওয়ার কথা নয়। ফলে এই নির্বাচন এবং তার মাধ্যমে গঠিত নির্বাহী পরিষদের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। উল্লেখ্য, অতীতে রাজ্য়পাল নিয়োগ নিয়ে টালবাহানার আবহে এই বুদ্ধদেব সাউকে অন্তবর্তী উপাচার্য নিয়োগ করেছিলেন প্রাক্তন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস ৷

    বুদ্ধদেব সাউয়ের দাবি, “যখন 15 বছর ধরে স্ট্যাটিউট না-থাকার কারণে নির্বাচন হয়নি, তখন হঠাৎ করে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাড়াহুড়ো করা হল কেন ? এর পিছনে কোনও শুভ কারণ নেই বলেই আমাদের মনে হয়েছে। নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের কাছাকাছি থাকা কিছু ব্যক্তিকে নির্বাহী পরিষদে নিয়ে আসতেই এই প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে।”

    নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ

    স্মারকলিপিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার মানদণ্ড সঠিকভাবে পালিত হয়নি। ডেপুটি রেজিস্ট্রার, সেক্রেটারি (ফ্যাকাল্টি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি), অফিসার, প্লেসমেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং এবং ডিন অব স্টুডেন্টস পদে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবিআরএসএম। সংগঠনের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে ন্যূনতম যোগ্যতাও ছিল না সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের। তবুও তাঁদের নিয়োগ করা হয়েছে।

    বিশেষ করে ডেপুটি রেজিস্ট্রার নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্বাহী পরিষদের অনুমোদন ছাড়াই একটি স্ট্যান্ডিং কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়েছে এবং সেখানে ‘জাল প্রস্তাব’ ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ আরএসএসের এই সংগঠনটির। তাদের দাবি, এই ধরনের সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো এবং আইনি বিধির পরিপন্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে স্বজনপোষণ ও অস্বচ্ছতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আর্থিক বিষয়েও যথেষ্ট স্বচ্ছতা নেই বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

    বুদ্ধদেব সাউ জানান, বিভিন্ন আর্থিক তথ্য চাওয়া হলেও তা দীর্ঘদিন ধরে দেওয়া হয়নি। তথ্য দিতে অযথা বিলম্ব করা হয়েছে ৷ প্রয়োজনীয় নথি প্রদানে অনীহা দেখানো হয়েছে। এর ফলে আর্থিক অনিয়ম বা তথ্য গোপনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে ছাত্র ভর্তির প্রক্রিয়াও। সংগঠনের দাবি, ভর্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে সমস্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে না। বরং শিক্ষকদের একাংশের সক্রিয় ভূমিকার জেরে পক্ষপাতদুষ্টভাবে ভর্তি প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে ৷ যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুস্থ শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে উদ্বেগজনক।

    অভিযুক্ত উপাচার্যও

    এবিআরএসএমের আরও দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে একাধিকবার এই বিষয়গুলি জানানো হলেও কার্যকরী কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। বরং বেআইনি সিদ্ধান্তগুলিকে কার্যকর করার ক্ষেত্রেই প্রশাসন বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, একজন উপাচার্যের প্রথম দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন মেনে চলা। কিন্তু যদি তিনি নিজেই আইন লঙ্ঘন করে সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

    এই পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল তথা আচার্যের কাছে এবিআরএসএমের আবেদন, অবিলম্বে নির্বাহী পরিষদের সমস্ত প্রস্তাবিত বৈঠক স্থগিত করা হোক, সাম্প্রতিক কালে হওয়া সমস্ত নিয়োগের পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক ৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের উপর কড়া নজরদারি চালানো হোক। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে আচার্যের দ্রুত হস্তক্ষেপ এখন অত্যন্ত জরুরি।
  • Link to this news (eTV Bharat)