• 4 লুপ্তপ্রায় প্রজাতি-সহ মালদার নানা ধরনের আমের পসরা বসছে কলকাতার এই উৎসবে
    eTV Bharat | ২৭ জুন ২০২৬
  • মালদা, 26 জুন: এবার জেলা থেকে হারিয়ে যেতে বসা বিভিন্ন প্রজাতির আম বাঁচাতে নতুন ভাবনা প্রশাসনের৷ এসব প্রজাতির আমকে মানুষের কাছে নিয়ে যেতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ৷ আগামী 27 জুন থেকে কলকাতায় শুরু হতে চলা আম উৎসবে ঠাঁই পাবে মালদার চার বিরল প্রজাতির আম৷

    প্রশাসনের লক্ষ্য, হারিয়ে যেতে বসা প্রজাতির আম মানুষের কাছে সমাদৃত করা৷ তারপর সেসব আমের জিআই ট্যাগের জন্য আবেদন জানানো৷ এতে ভবিষ্যতে একদিকে যেমন এসব প্রজাতির আম সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, তেমনই এই প্রজাতিগুলিও দেশে ও বিদেশে রফতানির পথ সুগম হবে৷ প্রশাসনের এহেন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন জেলার আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা৷

    একটা সময় মালদা জেলায় প্রায় সাড়ে তিনশো প্রজাতির আম পাওয়া যেত৷ প্রাচীন নথিপত্রে সেসব আমের নাম এখনও পাওয়া যায়৷ তবে সময়ের সঙ্গে অনেক প্রজাতির আম পুরোপুরি হারিয়ে গিয়েছে৷ কিছু প্রজাতি এখন শুধু নামেই জীবিত৷ এই আমগুলিকেই এবার পুনর্জন্মের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন৷

    উদ্যানপালন ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতরের উদ্যোগে আগামী 27 জুন থেকে কলকাতার নিউটাউন অরগানিক হাটে আয়োজিত হতে চলেছে আম মেলা৷ এই মেলা চলবে আগামী 5 জুলাই পর্যন্ত৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা উদ্যানপালন ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতরের এক আধিকারিক বলেন, “গত কয়েক বছর ধরে প্রতিবারই কলকাতায় এই মেলার আয়োজন করা হচ্ছে৷ এবারও সেই মেলা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে৷ ওই মেলায় রাজ্যের বিভিন্ন জেলার উৎপাদিত আম প্রদর্শিত ও বিক্রি হবে৷ মালদা থেকেও বেশ কিছু প্রজাতির আম ওই মেলায় পাঠানো হচ্ছে৷’’

    কী কী আম থাকবে? সেই নিয়ে ওই আধিকারিক বলেন, ‘‘এর মধ্যে ফজলি, ল্যাংড়া, হিমসাগর, লক্ষ্মণভোগ, আম্রপালি, মল্লিকার মতো আম তো থাকবেই, সঙ্গে লুপ্তপ্রায় মিশরিকন্দ, নবাব কুসুম, আশুদাগি ও রাখালভোগ প্রজাতির আমও সেখানে পাঠানো হবে৷ মেলায় যাবে থাই ব্যানানা, মিয়াজাকির মতো বিদেশি আমও৷ মালদা জেলার বেশ কিছু প্রজাতির আম এখন লুপ্তপ্রায়৷ এমনই চারটি প্রজাতির আম এবার আমরা মেলায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷ মানুষের কাছে এই প্রজাতিগুলির গ্রহণযোগ্যতা বাড়লে জেলার আমচাষিরাও এসব প্রজাতির চাষ করতে উৎসাহী হবেন৷ তাতে এই প্রজাতিগুলি আবার বেঁচে উঠবে৷ আশা করি, এই চার প্রজাতির আমের স্বাদ ও গন্ধ কলকাতাবাসীর পছন্দ হবে৷”

    সংশ্লিষ্ট দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলাই নয়, লুপ্তপ্রায় প্রজাতির আমগুলির জিআই ট্যাগ পাওয়ার ভাবনাও এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে৷ এখনও পর্যন্ত মালদার হিমসাগর, ফজলি ও লক্ষ্মণভোগ জিআই ট্যাগ পেয়েছে৷ এই তিন প্রজাতির আম এখন দেশের বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে বিদেশেও রফতানি হচ্ছে৷ রফতানির পাশাপাশি মালদার ব্র্যান্ডিংও হচ্ছে৷ রফতানিকারকদের ক্ষেত্রেও জিআই ট্যাগ থাকা আম দেশ ও বিদেশে বাজারজাত করতে সুবিধে হচ্ছে৷ তাই নতুন করে আরও কিছু প্রজাতির আম সেই ট্যাগ পেলে ভবিষ্যতে এই জেলার আম অর্থনীতির পরিসর আরও বৃদ্ধি পাবে৷

    শুধু আমই নয়, কলকাতার আম মেলায় মালদার আমের পাশাপাশি এই জেলার আমসত্ত্ব, আমের আচার, আমপানা থেকে শুরু করে আমজাত বিভিন্ন মিষ্টিরও স্বাদ নিতে পারবেন মানুষজন৷ তবে প্রবল গরমে আমের মিষ্টির গুণমান বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে কিঞ্চিৎ আশঙ্কা রয়েছে৷

    আমের উপজাত সামগ্রী প্রস্তুতকারক চিন্ময় মণ্ডল বলেন, “আমি আমসত্ত্ব আর আমের আচার তৈরি করে থাকি৷ গতবার কলকাতার মেলায় আমার উৎপাদিত সামগ্রী মানুষের মন জয় করেছিল৷ এবারও আমার তৈরি আমসত্ত্ব আর আচার কলকাতার মেলায় যাবে৷ আশা করছি, এবারও সেখানকার মানুষজন এই দু’টি সামগ্রীর স্বাদ উপভোগ করবেন৷”

    জেলা প্রশাসনের এহেন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন মালদা ম্যাঙ্গো অ্যাসোসিয়েশের সভাপতি উজ্জ্বল সাহা৷ তিনি বলেন, “মালদার আমের গুণগত মানবৃদ্ধি করতে গত এক বছর ধরেই নিরবিচ্ছিন্ন কাজ করে চলেছে উদ্যানপালন ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতর৷ এর জন্য একাধিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে৷ বিগত কয়েক বছর কলকাতা ও দিল্লির মেলায় মালদার আমের যথেষ্ট চাহিদা লক্ষ্য করা গিয়েছে৷ এবারও দিল্লির মেলায় এই জেলার আমের যথেষ্ট চাহিদা ছিল৷’’

    উজ্জ্বল সাহা আরও বলেন, ‘‘জেলার বেশকিছু আমচাষি এখন জৈব পদ্ধতিতে চাষের পাশাপাশি ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন৷ এতে তাঁদের বাগানে উৎপাদিত আমের আকার, স্বাদ ও গন্ধ আগের তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে৷ আমরা আশা করি, কলকাতার মানুষ এবার মালদার আমের প্রকৃত স্বাদ ও গন্ধ পাবেন৷ তাঁদের কাছে জেলার আম সমাদৃত হবে৷ মালদায় উৎপাদিত অনেক প্রজাতির আমের নামই অনেকে শোনেননি৷ তেমনই চারটি প্রজাতি হল নবাব কুসুম, রাখালভোগ, আশুদাগি ও মিশরিকন্দ৷ প্রতিটি প্রজাতির আমেরই দুর্দান্ত স্বাদ৷ বাস্তবিকই এসব প্রজাতির আমের স্বাদের কোনও ভাগ হয় না৷”
  • Link to this news (eTV Bharat)