এই সময়: পাঁচ বছর পরে জুনের কলকাতা ৩০০ মিমি–র বেশি বৃষ্টি পেল। পুনের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মিটিওরোলজির (আইআইটিএম) রেকর্ড অনুযায়ী জুনের কলকাতা শেষবার ৩০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি পেয়েছিল ২০২১–এ। সে বছর শহরে বর্ষার প্রথম মাসে ৪০১.৮ মিমি বৃষ্টি হয়েছিল।
শুধু ১৭ জুনই ১৪৪ মিমি বৃষ্টি হয়েছিল। এ বছর এখনও পর্যন্ত একদিনও কলকাতায় ১০০ মিমি বৃষ্টি পায়নি। কিন্তু প্রথমে ২১ জুন (৬২.১ মিমি), তারপরে ২৩ জুন (৫৯.৩ মিমি) এবং ২৫ জুন (৮৮.৬ মিমি) — মাত্র ৯৬ ঘণ্টায় প্রায় ২১০ মিমি বৃষ্টি পাওয়ায় ৩০০ মিমির ঘর পার করেছে জুনের কলকাতা। আলিপুর হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, জুনে শহরে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ থাকে ২৭৬.৫ মিমি। এ বছর ২৬ জুন পর্যন্ত বৃষ্টির পরিমাণ ৩৩৬.৩ মিমি।
দু’দিন আগেই সামগ্রিক ভাবে ২০২৬–এর জুনকে একশো বছরের মধ্যে দেশের শুষ্কতম জুন বলে চিহ্নিত করেছেন আবহবিদদের একাংশ। কিন্তু কলকাতার পরিস্থিতি দেখে কে বলবে দেশ গড় বৃষ্টির মাত্র ৫৮ শতাংশ পেয়েছে! শুধু জুন নয়, আলিপুর হাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, এ বছর মার্চ থেকেই কলকাতা প্রতি মাসে গড়ের চেয়ে বেশি বৃষ্টি পেয়ে আসছে।
মার্চের কলকাতা গড়ে ৩৬.৮ মিমি বৃষ্টি পায়, এ বছর পেয়েছে ৫৮.৫ মিমি। এপ্রিলের গড় বৃষ্টি ৫৫ মিমি। এ বার ১২৭.৯ মিমি পেয়েছে। মে–র কলকাতায় গড় বৃষ্টি ১১৮.৫ মিমি। এ বছর শহরে ১৩৭.১ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। অর্থাৎ জুন শুরুর আগেই শহর স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৫৪ শতাংশ বেশি বৃষ্টি পেয়েছে। এর পরে শুধু জুনেই শহর প্রায় ২২ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে।
যদিও রাজ্যের অন্যত্র ছবিটা একেবারে উল্টো। দক্ষিণবঙ্গের ১৫টি জেলার বেশিরভাগেই বৃষ্টির ভয়াবহ ঘাটতি। এদের মধ্যে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, নদিয়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ঘাটতির পরিমাণ ৪২ শতাংশেরও বেশি। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ঘাটতি ১১ থেকে ১৫ শতাংশ।
একদিকে দেশের বেশিরভাগ অংশেই যখন বৃষ্টির ঘাটতি, তখন কলকাতায় স্বাভাবিকের চেয়ে এত বেশি বৃষ্টি হওয়ায় অনেকেই বিস্মিত। এমনকী দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির আকালের মধ্যেই কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলে এই প্রবল বৃষ্টি অবাক করেছে আবহবিদদের।