• ‘একসঙ্গে এত অর্ডার কোনও দিন পাইনি’, ভাগ্য ফেরাল শ্যামাপ্রসাদের মূর্তির বরাত
    এই সময় | ২৭ জুন ২০২৬
  • সূর্যকান্ত কুমার, কালনা

    অ্যাকাডেমি অফ ক্রিয়েটিভ আর্টসের কৃতী ছাত্র, যাঁর অসাধারণ শৈল্পিক দক্ষতায় ক্যানভাস বা ভাস্কর্যে ফুটে ওঠে অবিকল প্রতিকৃতি। কলকাতার রুবির মোড়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যে পূর্ণাবয়ব মূর্তিটি রয়েছে, সেটিও তাঁরই হাতের তৈরি। তবুও যোগ্য কাজের তেমন সুযোগ না–মেলায়, পর পর তিন বার রাজ্য স্তরে দারুশিল্পে পুরস্কার পাওয়া কালনার জগৎ মণ্ডলকে ক্রমশ গ্রাস করছিল তীব্র হতাশা। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরে বিজেপির সরকার তৈরি হতেই যেন রাতারাতি ঘুরে গিয়েছে জগতের ভাগ্যের চাকা।

    বিজেপির পূর্বসূরী তথা ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তির বরাত সামাল দিতে এখন নাওয়া-খাওয়া ভুলতে বসেছেন এই শিল্পী। ইতিমধ্যেই ১২টি ফাইবারের মূর্তির বরাত পেয়েছেন জগৎ। আরও প্রচুর অর্ডার এলেও ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিনের আগে তা তৈরি করে দেওয়া সম্ভব নয় বলে বাধ্য হয়েই ফিরিয়ে দিতে হয়েছে অনেককে। তবে আগামী দিনে মূর্তির প্রচুর বরাত মেলার সম্ভাবনা আঁচ করে এ বার নিজের পরিকাঠামো আরও বড় করে গড়ে তোলার চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন কালনা শহরের যোগীপাড়ার এই বাসিন্দা।

    জগৎ মণ্ডল অ্যাকাডেমি অফ ক্রিয়েটিভ আর্টস থেকে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়ে তিন বছরের ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করেছেন। বাড়িতে স্ত্রী বুল্টি মণ্ডল ও দুই মেয়েকে নিয়ে তাঁর সংসার। রাজ্য স্তরে ২০০৩, ২০০৪ এবং ২০০৫ সালে পর পর তিন বছর দারুশিল্পে শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার পেয়েছেন জগৎ। কিন্তু সেই তুলনায় কাজের সুযোগ মিলছিল না। শিল্পীর স্ত্রী বুল্টি বলেন, ‘ও যে মানের শিল্পী, সেই ধরনের কাজ আগে মিলত না। অভাব আর সুযোগের অভাবে ও মাঝেমধ্যেই খুব ভেঙে পড়ত। আজ ওর কাজ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে দেখে খুব ভালো লাগছে।’ স্বামীর এই বিপুল ব্যস্ততায় এখন আর শুধু মুখে নয়, কাজেও সাহায্য করতে হাত লাগিয়েছেন স্ত্রী বুল্টি। জগৎকে কাজে সাহায্য করছেন এলাকার আরও দুই তরুণ শিল্পী রাজা পাল ও শুভেন্দু রায়।

    কাজের ব্যস্ততার ফাঁকে জগৎ বলেন, ‘মাসখানেক আগে প্রথম অর্ডার পাই কালনার লিচুতলার বাসিন্দা রতন রুইদাসের কাছ থেকে। তার পরই একে একে অর্ডার আসতে শুরু করে। ফ্রেঞ্চ চক, মার্বেল ডাস্ট, রাসায়নিক ও রড দিয়ে মূর্তিগুলো তৈরি করছি। কালনার কাছাকাছি হুগলির জিরাটে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদি নিবাস। ওই এলাকা থেকেই শুধু সাতটি মূর্তির বরাত পেয়েছি। রবীন্দ্রনাথ, নেতাজি সবারই মূর্তি আমি করি। তবে একসঙ্গে এত অর্ডার কোনও দিন পাইনি। জুন মাসে শ্যামাপ্রসাদের আত্মবলিদান দিবস ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস গিয়েছে, আবার জুলাইয়ে ওঁর জন্মদিবস। যা পরিস্থিতি দেখছি, তাতে আগামী দিনে আরও প্রচুর মূর্তির অর্ডার মিলবে। সেই মতো বড় করে পরিকাঠামো তৈরি করছি।’

    আরএসএস-এর সঙ্গে যুক্ত রতন রুইদাস জগতের এই অসামান্য প্রতিভার প্রসঙ্গে বলেন, ‘শ্যামাপ্রসাদের মূর্তির জন্য প্রথমে আমি কৃষ্ণনগরে যাব ভেবেছিলাম। তখনই স্থানীয় শিল্পী জগৎ মণ্ডলের খোঁজ পাই। ওঁর তৈরি মূর্তি দেখে আমি অবাক হয়ে গিয়েছি। আমাদের কালনায় যে এমন মানের একজন আন্তর্জাতিক স্তরের শিল্পী লুকিয়ে আছেন, তা আগে জানাই ছিল না।’

  • Link to this news (এই সময়)