• ডিম ছোড়ায় সায় নেই শুভেন্দু-শমীকের, রাজ্য জুড়ে তবুও অব্যাহত ‘ডিমোক্রেসি’
    এই সময় | ২৭ জুন ২০২৬
  • এই সময়: প্রতিবাদের মাধ্যম হিসেবে ডিম–ছোড়া রুখতে বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। তাঁদের বারণ সত্ত্বেও বৃহস্পতি ও শুক্রবার রাজ্যজুড়ে তৃণমূল নেতাদের প্রতি ডিম–বর্ষণ অব্যাহত। এ দিনও কোচবিহার সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে।

    মঙ্গলবার নিউটাউনে দলীয় বিধায়কদের একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ডিম-সংস্কৃতির কড়া সমালোচনা করে বলেছিলেন, ‘বাজেটে ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি এবং বছরে এক লক্ষ চাকরির যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সেটাই তৃণমূলের জন্য সেরা জবাব। অকারণে ডিম ছোড়া সাধারণ মানুষ একেবারেই পছন্দ করছে না।’ অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও প্রকাশ্যেই জানিয়েছিলেন যে, ডিম ছোড়া কোনও রাজনৈতিক দলেরই সুস্থ কর্মসূচি হতে পারে না। এই পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হওয়া দরকার।

    কিন্তু শীর্ষ নেতৃত্বের এই বার্তার পরেও থামেনি জনরোষ। শুক্রবার একই ঘটনা ঘটে পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামে। কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া প্রাক্তন তৃণমূল ব্লক সভাপতি শেখ আবদুল লালন ও তাঁর ছেলে যুবনেতা আফজল রহমানকে থানা থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময়ে বিক্ষুব্ধ জনতা ডিম ছোড়ার পরে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে থাকে। ডিমের হাত থেকে বাঁচাতে পুলিশ বাধ্য হয়ে বাবা-ছেলের মাথায় হেলমেট পরিয়ে ও ঢাল দিয়ে ঘিরে গাড়িতে তোলে। অন্যদিকে, ঠিক তার আগের দিন, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাতে বারাসত পুরসভা এলাকায় প্রাক্তন উপ-পুরপ্রধান তাপস দাশগুপ্ত-সহ তিনজন তৃণমূল নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে অকাতরে ডিম ছোড়া হয়।

    কোচবিহারের তুফানগঞ্জেও শুক্রবার দেখা যায় একই চিত্র। শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মদন মোহনপাড়া এলাকায় প্রাক্তন তৃণমূল ওয়ার্ড সভাপতি সুব্রত দাস ওরফে লিটনকে রাস্তায় পেয়ে ঘিরে ধরে তাঁর মাথায় একের পর এক ডিম ফাটাতে থাকে উত্তেজিত জনতা। কাটমানি ও দুর্নীতির অভিযোগে ঘেরাও হওয়া ওই নেতা জনতার হাত থেকে বাঁচতে অঝোরে কাঁদতে থাকেন এবং ছেড়ে দেওয়ার আকুতি জানান।

    স্থানীয় বিজেপি নেতার দাবি, ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি অবৈধ জমির কারবার, তোলাবাজি এবং সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করতেন, তারই বদলা নিয়েছে মানুষ। আলিপুরদুয়ারেও শুক্রবার যুব তৃণমূল নেতা রনি মল্লিককে আদালতে পেশ করার সময়ে ডিম ছোড়া হয়। বিজেপি নেতাকে খুনের হুমকির অভিযোগে ধৃত রনির অবশ্য দাবি, হামলার ভয়ে ফাঁড়িতে আশ্রয় নিতে গেলে পুলিশ উল্টে তাঁকেই গ্রেপ্তার করে।

    একই দিনে ধূপগুড়ির সাঁকোয়াঝোড়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের দেওমালি এলাকায় আবাস যোজনার কাটমানি খাওয়ার অভিযোগে তৃণমূল সদস্য মঞ্জিলা খাতুনের বাড়ি ডিম হাতে ঘেরাও করেন গ্রামবাসীরা। বেগতিক বুঝে ওই নেত্রী আগেই বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ গিয়ে ফাঁকা বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেয়। সব মিলিয়ে রাজ্যজুড়ে ডিম ছোড়ার এই লাগামছাড়া হিড়িক সামলাতে এবার নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ। রাজ্য পুলিশের এক পদস্থ কর্তার বক্তব্য,‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে।’

  • Link to this news (এই সময়)