• ২০৩০-এর মধ্যেই দুর্ঘটনায় মৃত্যু অর্ধেক করতে গবেষণায় IIT খড়্গপুর
    এই সময় | ২৭ জুন ২০২৬
  • এই সময়, রাজারহাট: পথ–দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনা বেড়ে চলায় বিচলিত গোটা দেশ। বছরে প্রায় দু’লক্ষ পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারাচ্ছেন। তবে এই পরিসংখ্যানের মধ্যেও খানিকটা স্বস্তির খবর শোনাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের একটি এলাকায় পরীক্ষা–নিরীক্ষার ফলাফল।

    ২০৩০–এর মধ্যে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার কী ভাবে অর্ধেকে নামিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে চর্চা করছেন আইআইটি খড়্গপুরের একদল গবেষক। তাঁদের বক্তব্য, দুর্ঘটনায় মৃত্যু কমাতে শুধু আইন নয়, বৈজ্ঞানিক গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাই সবচেয়ে কার্যকরী উপায়। রোড সেফটি নেটওয়ার্ক (আরএসএন)-এর সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার নিউ টাউনে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে গবেষক, নীতিনির্ধারক, পুলিশ–প্রশাসন, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন নীতির উপরে জোর দেন।

    গবেষকদের দাবি, ২০২৪–এ দেশে পথ–দুর্ঘটনায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অতিরিক্ত গতিই ৬২ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্যে দায়ী। এই হিসেবের মধ্যে দু’চাকার আরোহীদের পাশাপাশি ৩৬,৫২৬ জন পথচারীর মৃত্যুতে উদ্বেগ আরও বেড়েছে বিভিন্ন মহলে। তাই গতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

    আইআইটি খড়্গপুরের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ভার্গব মৈত্র বলেন, ‘১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে মেদিনীপুরের বালিহাটি থেকে কোলাঘাট পর্যন্ত ৫১ কিলোমিটার অংশে বৈজ্ঞানিক নকশাভিত্তিক চিকেন ব্যারিকেড ও অন্য স্পিড ম্যানেজমেন্ট চালিয়ে উল্লেখযোগ্য ফল মিলেছে। দেখা গিয়েছে, এই ব্যবস্থায় গাড়ির গতি ৩৯–৪৫%, ভারী যানের গতি ২৯–৩৩% এবং দু’চাকার গতি ১৮–২৮% পর্যন্ত কমেছে। প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা, মৃত্যুর সংখ্যাও কমেছে উল্লেখযোগ্য ভাবে।’ গতিনিয়ন্ত্রণে এই ব্যবস্থা দেশে প্রথম পশ্চিমবঙ্গেই বাস্তবায়িত হয়েছে। বাংলার এই মডেল সফল হলে তা সারা দেশে দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, গতি কমলে দুর্ঘটনার ভয়াবহতা অনেকটাই হ্রাস পায় এবং প্রাণহানির আশঙ্কা কমে। তাই নিরাপদ নগর করিডর, প্রযুক্তিনির্ভর আইন প্রয়োগ, শিশু ও পথচারী নিরাপত্তা, সিটবেল্ট ব্যবহারের পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক স্পিড ম্যানেজমেন্টের জন্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার। আলোচনায় রাজ্য নগরোন্নয়ন ও পুর দপ্তরের বিশেষ সচিব পাপিয়া ঘোষ রায়চৌধুরী, সেভলাইফ ফাউন্ডেশনের গৌতম সিং, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুহাম্মদ আশহিল এবং ক্যাগ-এর এস সরোজা উপস্থিত ছিলেন।

  • Link to this news (এই সময়)