এই সময়, ব্যান্ডেল: ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের ঘনিষ্ঠ এক যুবককে পুলিশ পরিচয় দিয়ে কয়েক জন বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছেন বলে দাবি করল তাঁর পরিবার। তবে কারা তুলে নিয়ে গিয়েছে, সে সম্পর্কে পরিবারের তরফে কিছু বলা হয়নি।
তোলাবাজি–সহ দুর্নীতির একাধিক অভিযোগে শালবনি থানার পুলিশ সুমিতকে খুঁজছে। তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। সুমিতের নামে লুক–আউট নোটিসও জারি করা হয়েছে। এই অবস্থায় তাঁর ঘনিষ্ঠ যুবককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে শালবনি থানায় যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, এর সঙ্গে তাদের কোনও যোগসূত্র নেই। কোনও মামলায় ওই ব্যক্তিকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, এমন কোনও তথ্য সিআইডি–র সূত্রেও পাওয়া যায়নি।
ব্যান্ডেলের কেওটা রাধারানি কলোনির বাসিন্দা পলাশ চক্রবর্তী নামে ওই যুবককে বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের দাবি, বৃহস্পতিবার রাত এগারোটার পরে ইংরেজিতে ‘পুলিশ’ লেখা সাদা রঙের একটি গাড়ি করে পাঁচ–ছ’জন আসেন। সেই গাড়ি করেই পলাশকে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর বাবা প্রদীপ চক্রবর্তী জানান, পলাশ মূল্যবান পাথরের ব্যবসা করেন।
তিনি বলেন, ‘পাঁচ জন এসেছিলেন। ছেলেকে নিয়ে যান ওঁরা। তাঁরা কোনও থানার পুলিশ না সিআইডি, কোনও প্রশ্নেরই জবাব দেননি।’ কিন্তু ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরেও ছেলের কোনও খোঁজ না–থাকা সত্ত্বেও তাঁরা কেন স্থানীয় থানায় গেলেন না, সে প্রশ্নের কোনও উত্তর দেননি পলাশের পরিবারের লোকেরা।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূলকর্মী পলাশ এক সময়ে কলেজে ছাত্র রাজনীতি করেছেন। শ্রীরামপুর কলেজের জিএস–ও ছিলেন। নিয়োগ–দুর্নীতিতে অভিযুক্ত হুগলির তৃণমূল নেতা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও পলাশকে দেখা যেত বলে জানা গিয়েছে। তবে সুমিতের সঙ্গে পলাশের ঘনিষ্ঠতা কেমন ছিল, সে বিষয়ে তাঁদের স্পষ্ট ধারণা নেই বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসীর একাংশ। তবে এলাকায় ভালো মানুষ হিসেবে অনেকের কাছেই পরিচিত পলাশ। গত বছর পাড়ার ক্লাবের প্রথম দুর্গাপুজো স্পনসরও করেছিলেন তিনি।