এই সময়: সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া শুরু হতেই নিয়ম মেনে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াচ্ছেন সবাই, কিন্তু সচেতন ভাবে ঠোঁট নাড়াচ্ছেন না অনেকে— বিষয়টি নজর এড়ায়নি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। শুক্রবার কলকাতায় রবীন্দ্র সদনে ‘সিটিজে়ন এমপাওয়ারমেন্ট ফোরাম’–এর উদ্যোগে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বন্দে মাতরম’–এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি অনু্ষ্ঠানে হাজির হয়ে নিজেই সে কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় আসার পরে বন্দে মাতরম সব শিক্ষপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সহায্যপ্রাপ্ত সব জায়গায় প্রার্থনা সঙ্গীত করেছি।’ এরপরে মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, ‘সরকারি নির্দেশ— তাই বাধ্য হয়ে অনেককে দাঁড়াতে হচ্ছে। কিন্তু ঠোঁট নড়ছে না!’
মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছেন, ‘বন্দে মাতরমের’ প্রতি কোনও রকম অশ্রদ্ধা বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর সংযোজন, ‘শুধু দাঁড়ালেই হবে না। ঠোঁটটাও নাড়াতে হবে। একটু সময় লাগবে। সেটাও করব আমরা। ভরসা রাখুন। যে প্রত্যাশা আপনারা আমাদের উপরে রেখেছেন, তা পূরণ করার দায়িত্বও আমাদের।’
রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন শক্তিকে সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, ‘কোনও রাষ্ট্রবিরোধী কাজ আর পশ্চিমবঙ্গের মাটি থেকে হবে না। আমরা বরদাস্ত করব না।’ শুভেন্দু বলেন, ‘এ রাজ্যে থেকে আগামীতে সেনাবাহিনী বা দেশকে অপমান করা যাবে না। ল্যান্ড জিহাদ, লাভ জিহাদ আর বলপূর্বক ধর্মান্তরকরণের বিরুদ্ধে কঠোর আইন এই সরকার আনবে। একটু সময় দিন আমাদের।’
শুক্রবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিগুণা সেন অডিটোরিয়ামে পালিত হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকী। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা রাজ্যপাল আরএন রবি বর্তমান প্রজন্মের কাছে বঙ্কিমচন্দ্রের আদর্শ এবং ‘বন্দে মাতরম’ মন্ত্রের গভীর তাৎপর্য তুলে ধরার উপরে বিশেষ জোর দেন।
রাজ্যপাল বলেন, ‘দেশের এক চরম দুর্দশার সময়ে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি ছিলেন ঈশ্বর প্রেরিত একজন মহান ঋষি, যাঁর জন্মই হয়েছিল দেশবাসীকে জাগিয়ে তোলার পবিত্র উদ্দেশ্যে। তাঁর রচিত ‘বন্দে মাতরম’ গানটি জাতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনকে এক প্রবল উদ্দীপনা জুগিয়েছিল এবং জাতি, ভাষা নির্বিশেষে সমগ্র ভারতের কোণায় কোণায় অনুরণিত হয়েছিল।’