‘মমতার জন্য আদর্শহীন ইভেন্টে পরিণত ২১ জুলাই’, তোপ প্রদেশ কংগ্রেসের
প্রতিদিন | ২৭ জুন ২০২৬
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই ২১ জুলাই শহিদ স্মরণের আসল উদ্দেশ্য ‘নষ্ট’ হয়েছে বলে নিশানা করল প্রদেশ কংগ্রেস। দলের দীর্ঘ দশকের এই কর্মসূচি যে মমতার জন্যই এই মাত্রা পেয়েছিল সে কথাও মনে করিয়েছে প্রদেশ নেতৃত্ব। শুক্রবার দলের তরফে এই সংক্রান্ত পোস্টার প্রকাশ করে তৃণমূল সরকারের মন্ত্রী তথা তৎকালীন বাম আমলের স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্ত, যাঁর নির্দেশে গুলি চালানো হয়েছিল তাঁর ফাইল প্রকাশের দাবি জানিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব।
৩৩ বছর আগে ১৯৯৩ সালে ভোটার আইডির দাবিতে যুব কংগ্রেস কর্মীদের মহাকরণ অভিযানে নির্বিচারে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় ১৩ জন দলীয় কর্মীর। এত বড় কর্মসূচির জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য বলে জানিয়েছেন দলের ২১ জুলাই উদযাপন কমিটির কো-অর্ডিনেটর প্রদেশ নেতা অমিতাভ চক্রবর্তী। একটি বিবৃতিতে একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, “তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের পরে এই কর্মসূচি আদর্শহীন ইভেন্টে পরিণত হয়েছিল, যা কংগ্রেসের মূল ভিত্তির পরিপন্থী। এবার কংগ্রেস ২৮ বছর পর সদর দপ্তর বিধান ভবনের বাইরে এসে একেবারে শহিদ মিনারে এই কর্মসূচি করছে। রাহুল গান্ধীকে এই শহিদ স্মরণে নিয়ে আসার পরিকল্পনাও রয়েছে।” প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের কথায়, “এই কর্মসূচি শুধু শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন নয়। একইসঙ্গে এটি সংবিধান রক্ষা, ছাত্র-যুবদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা, শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের ধারাবাহিক সংগ্রামেরও অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করবে।”
‘মণীশ গুপ্ত ফাইল’ প্রকাশের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “সেই সময় পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্ত প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ওই দিনের ঘটনাপ্রবাহ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং গুলিচালনার পিছনের প্রকৃত সত্য জানার অধিকার পশ্চিমবঙ্গের মানুষের রয়েছে। তাই সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার স্বার্থে এবং সত্য উদঘাটনের উদ্দেশ্যে ‘মণীশ গুপ্ত ফাইল’ অবিলম্বে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।’ ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি সফলভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে অমিতাভবাবুর নেতৃত্বে খুব শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ আয়োজক কমিটি গঠন করা হবে, যা কর্মসূচির সমস্ত দিক তদারকি করবে। এছাড়া অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) শ্রী কে. সি. বেণুগোপাল ২৯ ও ৩০ জুন কলকাতা সফরে আসছেন। এই সফরে তিনি পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক সাংগঠনিক পর্যালোচনা বৈঠক করবেন। সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই বৈঠকগুলি অনুষ্ঠিত হবে।