বিক্ষোভের ভয়ে গেলেন না সিতাই! কোচবিহারের ফ্ল্যাট থেকে কলকাতায় ফিরে গেলেন সাংসদ জগদীশচন্দ্র
বর্তমান | ২৭ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: কোচবিহারে এসেও সিতাই না গিয়ে কলকাতায় ফিরে গেলেন সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। শুক্রবার সকালে তিনি কলকাতায় পৌঁছন। দিনকয়েক আগে পুত্র, পুত্রবধূ ও নাতিকে নিয়ে কোচবিহারে এসেছিলেন। নিউ কোচবিহার স্টেশনে নাতিকে কোলে নিয়ে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় শহরে নিজের ফ্ল্যাটে এসে ওঠেন। সেখানেই এ ক’দিন ছিলেন।
জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া কোচবিহারে এসেছেন শুনেই সিতাইতে ডিম হাতে ক্ষুব্ধ মানুষের জমায়েত দেখা গিয়েছিল। সেই দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় আসতেই প্রমাদ গুনেছিলেন জগদীশ। সিতাইতে গেলে তাঁকে যে ডিম বৃষ্টির মুখে পড়তে হত তা প্রায় এক প্রকার নিশ্চিত ছিল। অনেকেই বলতে শুরু করেছিলেন, সেই কারণেই তিনি এবার আর সিতাইমুখী হওয়ার সাহস দেখাননি। বরং শহরে ফ্ল্যাটে বসে জল মেপেছেন। তারপর আবার সেখান থেকেই কলকাতা ফিরে গেলেন। কোচবিহারে থাকাকালীন তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখিও হননি।
তাঁর পরিবার সূত্রেই জানা গিয়েছে, একটি অত্যন্ত জরুরি পারিবারিক কাজে পুত্র, পুত্রবধূ, নাতিকে সঙ্গে নিয়ে কোচবিহারে এসেছিলেন। সেই কাজ সেরে তিনি আবার সকলকে সঙ্গে নিয়েই কলকাতা ফিরে গিয়েছেন। সাংসদ কবে আবার ফিরবেন, তা অনিশ্চিত। পাশাপাশি বিধায়ক সঙ্গীতা রায়ই বা কবে সিতাইয়ের বাড়িতে আসবেন তাও এখনও স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য,বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে জগদীশচন্দ্র ও সঙ্গীতাকে সিতাইয়ের বাড়ি থেকে আর বের হতে দেখা যায়নি। পরে তাঁরা দিল্লি চলে যান। সেসময় ছেলের অসুস্থতার কথা বলেছিলেন তাঁরা। এরপর জগদীশচন্দ্র দিল্লিতে অন্যান্য বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদের সঙ্গে হাত মেলান। তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইতে যোগ দেন। যা নিয়ে জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে হইচই পড়ে যায়। এদিকে, সাংসদের পাশাপাশি বিধায়ক সঙ্গীতাও দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরে বিদ্রোহী তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন।
শুক্রবার টেলিফোনে সঙ্গীতা রায় বলেন, সাংসদ শুক্রবার সকালে কলকাতায় ফিরে এসেছেন। এখন বিধানসভা চলছে। আমি সেখানে যাব। এমপি অধিবেশনে যোগ দিতে দিল্লি যাবেন। কোচবিহার বা সিতাইতে কবে ফিরব তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।