প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি, ভাবাদিঘিতে রেলের কাজ বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ
বর্তমান | ২৭ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: রেল ও রাজ্য সরকার গ্রামের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু, কথা রাখেনি। আমাদের ভাঁওতা দেওয়া হয়েছে। এমনটাই দাবি ভাবাদিঘির আন্দোলনকারীদের। তাঁরা এনিয়ে ক্ষুব্ধ। শুক্রবার সকালে ফের তাঁরা আন্দোলনে শামিল হলেন। ভাবাদিঘিতে রেলের কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। সেই খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও প্রশাসন। হাজির হন বিজেপি বিধায়কও। প্রশাসন ও বিধায়কের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ফের শুরু হয় রেলের কাজ। তাতেই হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন প্রশাসনের কর্তারা।
রেল প্রকল্পের সিনিয়র সেকশন ম্যানেজার ইন্দ্রজিৎ হাজারি বলেন, সকালে কাজে বাধা দেওয়া হয়। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারের সঙ্গে বাসিন্দাদের ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। মিটে গিয়েছে। এদিন থেকেই ফের কাজও শুরু হয়েছে।
তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেল লাইনের কাজ ভাবাদিঘিতে জমি জটে দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে আটকে ছিল। ভাবাদিঘির উপর দিয়ে রেললাইন নিয়ে যেতে বাধা দেন গ্রামের বাসিন্দারা। এনিয়ে তাঁরা আন্দোলনে নামেন। ফলে কাজ থমকে যায়। পুলিশ, প্রশাসন রেল কর্তারা একাধিকবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেন। কিন্তু, সমস্যার সমাধান অধরাই থেকে যায়। শেষপর্যন্ত বিষয়টি আদালতে গড়ায়। সম্প্রতি হাইকোর্টের নির্দেশে ভাবাদিঘির উপর সেতু নির্মাণ করে কাজ শুরু হয়। বর্তমানে সেখানে সেতু তৈরির কাজ চলছে। কিন্তু, গ্রামবাসী ও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, রেলের কাজ চললেও তাঁদের গ্রামের যে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তার কাজ বন্ধ রয়েছে। এনিয়ে এদিন সকালে আন্দোলনকারীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা রেলের কাজ করা শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করতে বলেন। তাতেই সেখানে উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনার খবর পেয়ে গোঘাট থানার পুলিশ, আরপিএফ যায়। গোঘাট-১ ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক হয় আন্দোলনকারীদের। পরে পরিদর্শনে যান বিধায়ক প্রশান্ত দিগারও। তাঁদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ভাবাদিঘির আন্দোলনকারী সুকুমার রায় বলেন, বিকল্প পুকুর, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, গ্রামে রাস্তা, স্কুল সহ একাধিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হচ্ছে না। তাই আমরা রেলের কাজ বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানিয়েছি। পরে বিধায়ক আশ্বাস দেওয়ায় বিক্ষোভ তুলে নেওয়া হয়। আমরা রেলের কাছে দ্রুত প্রতিশ্রুতি পূরণের দাবি জানিয়েছি।
আন্দোলনকারী দিলীপ পণ্ডিত বলেন, রেল ও রাজ্য যে কথা দিয়েছিল, তা রাখেনি। আমাদের একপ্রকার ভাঁওতা দিয়েছে। গ্রামের উন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল রেল, তা পূরণ হয়নি। আমাদের দাবি ছিল ভাবাদিঘির ও রেলের কাজ দু’টোই একসঙ্গে হোক। কিন্তু, আমাদের কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে দিয়েছে। রেলের কাজ চলছে। আগে আমাদের কাজ শেষ করতে হবে। ভাবাদিঘির মানুষ ডুবে মরবে নাকি।
জ্যোৎস্না মাণ্ডি বলেন, গ্রামের সমস্যা মেটেনি। ঢালাই রাস্তার উপর এক হাঁটু কাদা। গ্রামের না সমস্যা মিটলে ট্রেনের কাজ বন্ধ থাকবে।
বিধায়ক বলেন, ভাবাদিঘির মানুষ প্রকৃত উন্নয়নের ছোঁয়া পাবে। তাদের দাবিগুলিও খতিয়ে দেখা হবে। এদিনই রেলের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।