• ‘সপ্তসিন্ধু’ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে সুগারু চ্যানেলে নামছেন জলকন্যা সায়নী
    বর্তমান | ২৭ জুন ২০২৬
  • গণেশ মজুমদার, কালনা: ভারত তথা এশিয়া মহাদেশের মধ্যে প্রথম মহিলা সাতারু হিসাবে সপ্তসিন্ধু জয়ের শেষ লক্ষ্য নিয়ে জাপানের সুগারু চ্যানেল পার করতে রবিবার জাপানে পাড়ি দিচ্ছেন বাংলার জলকন্যা কালনার মেয়ে সায়নী দাস। ৩-৭ জুলাই জলে নামবেন সায়নী। তবে, সম্প্রতি ভেনেজুয়েলা ও জাপানের ভূমিকম্প নিয়ে চিন্তিত সায়নী সহ তাঁর পরিবার। পরিস্থিতি অনূকুল থাকলে জয়ের ব্যাপারে সায়নী একশো শতাংশ আশাবাদী 

    কালনা শহরের বারুইপাড়ার বাসিন্দা সায়নী ছোট থেকেই সাঁতারে আগ্রহী। পাড়ার পুকুর ও সুইমিংপুলে তাঁকে সাঁতারে প্রশিক্ষণ দিতে থাকেন বাবা রাধেশ্যাম দাস। মা রুপালি দাসও মেয়েকে উৎসাহ দিতে থাকেন। অল্প বয়সে স্কুল প্রতিযোগিতা থেকে রাজ্য ও জাতীয় স্তরে সাফল্য আসে। ২০১৭ সালে ইংলিশ চ্যানেল জয়ের পর ২০১৮ সালে অষ্ট্রেলিয়ার রটনেস্ট চ্যানেল জয় করেন। ২০১৯ সালে আমেরিকার ক্যাটালিনা জয়। ২০২২ সালে এশিয়ার প্রথম মহিলা সাতারু হিসাবে আমেরিকার হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মলোকাই চ্যানেল জয় করে দেশের জাতীয় পতাকা তুলে ধরেন মার্কিন মুলুকে। ২০২৪ সালে বিপদসংকুল নিউজিল্যান্ডের কুক স্ট্রেইট ও নর্থ চ্যানেল জয় করেন। ২০২৫ সালে জিব্রালটা চ্যানেল জয় করে সপ্তসিন্ধু জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে যান সায়নী। বাকি থাকে শুধু জাপানের সুগারু চ্যানেল। সেই স্বপ্ন পুরণে এবার জাপানে রওনা দিচ্ছেন তিনি। 

    রবিবার কলকাতা থেকে রাতের বিমানে সিঙ্গাপুর হয়ে জাপানে যাবেন বাংলার জলকন্যা। সুগারু চ্যানেলের দৈর্ঘ ৩০ কিলোমিটার। সেখানে এখন প্রচণ্ড ঠান্ডা। হাঙ্গরের দাপাদাপিও রয়েছে। তার উপর প্রায়শই উত্তাল থাকে সমুদ্র। ইতিমধ্যেই ভাগীরথী থেকে পুরীর সমুদ্র ও সুইমিংপুলে রাতদিন অনুশীলন করে নিজেকে তৈরি করে নিয়েছেন সায়নী।    মেয়ের একের পর সাফল্যের পিছনে বিপুল টাকা খরচ করেছেন রাধেশ্যামবাবু। বাড়ি বন্ধক রেখে ঋণ নিতে হয়েছে। পাশে পেয়েছেন সুশীল মিশ্র, সুরজিৎ বক্সি, ইন্দ্রনীল আচার্য, মহকুমা শাসক অহিংসা জৈন সহ বিশিষ্ট শুভানুধ্যায়ীদের। সায়নীর একের পর সাফল্যে রাজ্য সরকার খেলশ্রী সম্মান ও জাতীয় স্তরে তেনজিং নোরগে ন্যাশানাল অ্যাডভেঞ্চার অ্যাওয়ার্ড পান। এদিন সায়নী বলেন, রবিবার বিমানে কলকাতা থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে টোকিও যাব। সেখান থেকে বুলেট ট্রেনে গন্তব্যস্থলে। সম্প্রতি জাপানে ভূমিকম্প নিয়ে কিছুটা চিন্তায় রয়েছি।’ কালনার শিক্ষানুরাগী সুশীল মিশ্র বলেন, ‘সায়নীর কঠোর পরিশ্রম অধ্যাবসায় ওকে সাফল্য এনে দেবে। সুগারু চ্যানেল জয় করে এশিয়ার প্রথম মহিলা সাতারু হিসাবে সপ্তসিন্ধু জয়ের মুকুট উঠবে ওঁর মাথায়।’  সায়নী দাস।     
  • Link to this news (বর্তমান)