পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগী বিজেপি
বর্তমান | ২৭ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদে সভাধিপতি নির্বাচন পদ্ধতিকে মডেল করেই আগামীদিনে গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির দখল নিতে চলেছে বিজেপি। জেলায় এই মুহূর্তে তৃণমূল পরিচালিত অন্তত ১৫টি পঞ্চায়েত সমিতি থেকে সভাপতি এবং ১০০টির বেশি গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে প্রধান ইস্তফা দিয়েছেন। এখনও ইস্তফা দেওয়ার ঘটনা অব্যাহত। গত ২২ জুন তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের সমর্থন নিয়ে জেলা পরিষদ দখল করেছে বিজেপি। ৭০ আসন বিশিষ্ট জেলা পরিষদে মাত্র ১৪ জন সদস্য থাকা সত্ত্বেও দখল নিয়েছে শাসক শিবির। একই কায়দায় ইস্তফা দেওয়া পঞ্চায়েত সমিতি এবং গ্রাম পঞ্চায়েতেরও বোর্ড দখল করতে চলেছে বিজেপি। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে তৃণমূলের নির্বাচিত সদস্যরাও এই ফর্মুলা মেনে নিচ্ছেন।
জানা গিয়েছে, ময়না ব্লকে মোট ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েত। ওই পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শাজাহান শেখ আগেই ইস্তফা দিয়েছেন। এছাড়া, আটটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানও ইস্তফা দিয়েছেন। যে কারণে পঞ্চায়েতগুলিতে অচলাবস্থা চলছে। একই অবস্থা তমলুক ব্লকের মোট ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েতেরও। এই মুহূর্তে বিজেপির দখলে থাকা অনন্তপুর-১, শ্রীরামপুর-২ ও উত্তর সোনামুই বাদে সবক’টি গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে প্রধান ইস্তফা দিয়েছেন। পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী ঝর্ণা হাইত বর্মণ আগেই ইস্তফা দিয়েছেন। এভাবেই পাঁশকুড়া, নন্দকুমার, চণ্ডীপুর, কোলাঘাট পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং তৃণমূলের দখলে থাকা সিংহভাগ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ইস্তফা দিয়েছেন। কাঁথি, হলদিয়া এবং এগরা মহকুমা এলাকাতেও ছবিটা একইরকম। রামনগর-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নিতাই সার এবং ওই এলাকার অধীন একচেটিয়া তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান সরে গিয়েছেন।
পূর্ব মেদিনীপুরে মোট ২৫টি পঞ্চায়েত সমিতি। ২২৩টি গ্রাম পঞ্চায়েত। ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপি নন্দীগ্রাম-১ ও ২, শহিদ মাতঙ্গিনী, খেজুরি-২ ও এগরা-২ পঞ্চায়েত সমিতি দখল করে। বাকি ২০টিতে ক্ষমতায় ছিল তৃণমূল। তারমধ্যে অধিকাংশ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ইস্তফা দিয়েছেন। একইভাবে ২২৩টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে বিজেপির প্রায় ৮০টিতে জয়ী হয়েছিল। বাকি পঞ্চায়েতে বোর্ড গড়েছিল তৃণমূল। এই মুহূর্তে একচেটিয়া পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছে জোড়াফুল।শুক্রবার সরকারি ছুটির দিনেও জেলা পরিষদ খোলা রেখেছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি বামদেব গুছাইত। সেখানে জরুরি মিটিং হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে সেই মিটিংয়ে তৃণমূলের বোর্ড থাকাকালীন সাত কর্মাধ্যক্ষ এবং উপাধ্যক্ষ সুমিত্রা পাত্র উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ঠিক হয়েছে, ওই কর্মাধ্যক্ষরাই আপাতত নিজ নিজ স্থায়ী সমিতি চালাবেন। এদিন মিটিংয়ের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন জেলা পরিষদের খাদ্য ও সরবরাহ স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ তমালতরু দাসমহাপাত্র।
জেলা পরিষদ সদস্য বিজেপির উত্তম সিং বলেন, ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে প্রশাসক নিয়োগ হলে সর্বাধিক ৪৫দিন থাকতে পারবেন। কিন্তু, বোর্ডের মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত। তাই বোর্ড গঠনের সম্ভাবনাই বেশি। জেলা পরিষদের সভাধিপতি বামদেব গুছাইত বলেন, আপাতত জেলা পরিষদে সভাধিপতি ও সহ সভাধিপতি নির্বাচন সম্পন্ন হল। পঞ্চায়েত সমিতি এবং গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত হবে।