• ‘হেরিটেজ’ তকমা পেলেও শুরু হয়নি সংস্কার, বারাসতের জরাজীর্ণ বঙ্কিম ভিলা নিয়ে আক্ষেপ
    বর্তমান | ২৭ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: শুক্রবার সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিনে রাজ্যজুড়ে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এদিনই উত্তর ২৪ পরগনার সদর শহর বারাসতে বারবার ফিরে এল একটাই প্রশ্ন— বঙ্কিমচন্দ্রের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক ‘বঙ্কিম ভিলা’-র সংস্কারের কাজ কবে শুরু হবে? সূত্রের খবর, প্রায় এক বছর আগে পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশন বারাসতের ঐতিহাসিক ভবনটি ‘হেরিটেজ’ হিসাবে ঘোষণা করে। জেলা প্রশাসনকে সংস্কারের জন্য বিস্তারিত ‘এস্টিমেট’ তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়। তখন বারাসতবাসী আশা করেছিল, দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান ঘটিয়ে নতুন রূপে সেজে উঠবে ভবনটি। কিন্তু এতদিনেও কোনো কাজ হয়নি। তা নিয়েই আক্ষেপ শোনা গেল শহরবাসী ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের মুখে। বারাসত আদালত চত্বরের পাশে অবস্থিত ব্রিটিশ আমলের লালবাড়িতে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে অফিস করতেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এখানে বসেই তিনি সরকারি কাজ সামলাতেন। শুনতেন সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ।

    ইতিহাসবিদদের মতে, বঙ্কিমচন্দ্রের কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি বহন করে এই ভবন। অথচ বছরের পর বছর ধরে অযত্নে পড়ে রয়েছে সেটি। ভবনের বিভিন্ন অংশ জীর্ণ, চারপাশে আগাছার জঙ্গল, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ক্রমশ নষ্ট হচ্ছে ঐতিহ্যের সেই নিদর্শন। স্থানীয় শিক্ষক হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘হেরিটেজ ঘোষণা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কিন্তু শুধু ঘোষণা করলেই তো দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বাস্তবে সংরক্ষণ ও সংস্কারের কাজ শুরু না হলে ঐতিহাসিক ভবনটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নতুন সরকারের কাছে আরজি, অবিলম্বে সংস্কারের কাজ শুরু করে বঙ্কিম ভিলাকে সংগ্রহশালা বা ঐতিহ্য কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা হোক।’

    এনিয়ে বারাসতের বিজেপি বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আগের সরকার অনেক কিছুই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। বারাসতের অহংকার এই বঙ্কিম ভিলা। সংস্কারের কাজ কোন পর্যায়ে আছে, তা নিয়ে জেলাশাসকের সঙ্গে কথা বলব। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে কাজ দ্রুত শুরু করার জন্য আবেদন জানাব।’
  • Link to this news (বর্তমান)