• ঝড়বৃষ্টি বৃদ্ধির পূর্বাভাস দক্ষিণবঙ্গে, পশ্চিমাঞ্চলে জুনের শেষেও বৃষ্টির ঘাটতি
    বর্তমান | ২৭ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী কয়েকদিন উত্তরবঙ্গের পাহাড় লাগোয়া এলাকায় বেশি মাত্রায় বৃষ্টি চলবে। আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, কালিম্পং ও দার্জিলিং জেলায় যে বৃষ্টি হবে—তা ভারী থেকে অতিভারী। ওইসঙ্গে কোনো কোনো স্থানে অত্যন্ত বেশি বৃষ্টিরও আশঙ্কা থাকছে। এজন্য ‘লাল’ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গে জুনের একেবারে শেষ দু-তিনদিনে বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে ঝড়বৃষ্টির মাত্রা বাড়তে পারে। এমন ইঙ্গিতই দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। মাঝের সময়ে বিক্ষিপ্তভাবে ঝড়বৃষ্টি চলবে দক্ষিণবঙ্গে। বঙ্গোপসাগর থেকে বেশি মাত্রায় জলীয় বাষ্প বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের অনুকূল পরিস্থিতি আছে। এজন্য বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টি হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। এই প্রবণতা পাহাড় লাগোয়া উত্তরবঙ্গেই বেশি। উত্তর-পূর্ব এবং পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে মায়ানমার উপকূল লাগোয়া এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত আছে। এটির গতিপ্রকৃতির উপর নজর রাখছে আবহাওয়া দপ্তর। বর্ষার সময় উত্তর বঙ্গোপসাগরে কোনো ঘূর্ণাবর্ত, নিম্নচাপ তৈরি হলে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি বৃদ্ধির পরিস্থিতি তৈরি হয়। এবার সেরকম পরিস্থিতি হয়নি।

    তবে বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে বৃষ্টির দরুন জুন মাসে দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলা স্বাভাবিক বৃষ্টি পেয়েছে। কলকাতা এবং কয়েকটি জেলায় বৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘকালীন গড়ের অধিক। কলকাতায় জুন মাসে এখনো পর্যন্ত ৩৩৬ মিমি বৃষ্টি হয়েছে, যা গড়ের তুলনায় ৪২ শতাংশ বেশি। হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া ও পূর্ব বর্ধমান জেলায় গড়ের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। গড়ের চেয়ে অন্তত ১৯ শতাংশ কম বৃষ্টি হলে তাকে সরকারিভাবে ‘ঘাটতি’ ধরা হয়। এই নিরিখে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান ও ঝাড়গ্রাম জেলায় বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। ঝাড়গ্রামে বৃষ্টি হয়েছে সবচেয়ে কম ৭১.৫ মিমি,  যা গড়ের তুলনায় ৬৬ শতাংশ কম। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে গড়ের চেয়ে কিছুটা কম বৃষ্টি হলেও তা স্বাভাবিক মাত্রার মধ্যে আছে। উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির ঘাটতি আছে দুই দিনাজপুর এবং মালদহ জেলায়। কালিম্পংয়ে ৩৪৫ মিমি বৃষ্টি হলেও তা গড়ের চেয়ে ২১ শতাংশ কম। তাই ঘাটতি আছে বলে ধরা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের বাকি চার জেলায় গড়ের চেয়ে বেশিই বৃষ্টি হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)