রেল জমি অধিগ্রহণ করলে মালিকসহ ভাড়াটিয়াও পাবে ক্ষতিপূরণ: হাইকোর্ট
বর্তমান | ২৭ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জনস্বার্থমূলক প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে সেখানে বসবাসকারীদের পুনর্বাসন বা ক্ষতিপূরণ বাধ্যতামূলক। তা না করে বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করতে পারে না রেল কর্তৃপক্ষ। জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত একটি মামলায় রেলকে এমনটাই জানাল কলকাতা হাইকোর্ট। ডানকুনি থেকে লুধিয়ানা পর্যন্ত ১ হাজার ৮৫৬ কিলোমিটার ফ্রেট করিডর তৈরির জন্য সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণ করেছিল ভারতীয় রেল। নিয়ম মেনে জমির মালিকদের ন্যায্য মূল্যে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি শর্তানুযায়ী অতিরিক্ত ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরও জমি ফাঁকা করা যায়নি। যে কারণে ওই জমিতে বসবাসকারীদের উচ্ছেদের নোটিস পাঠায় রেল। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অধিগৃহীত জমিতে বসবাসকারী ৮ পরিবার। জানা যায়, জমিটি অধিগ্রহণের আগে ওই জমিতে ভাড়াটিয়া হিসাবে বাস করছিলেন তাঁরা। জমির মালিক ক্ষতিপূরণ পেলেও নিয়ম মেনে তাঁদের তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যর এজলাসে মামলাকারীদের পক্ষে আইনজীবী অরিন্দম দাস আদালতে রেলের নিজস্ব জমি অধিগ্রহণ আইনের নথি তুলে যুক্তি দেন, জমির মালিকদের মতই সেখানে বছরের পর বছর বাস করা ভাড়াটিয়ারাও আইনিভাবে ক্ষতিপূরণের অধিকারী। ২০২২ সালে হাইকোর্ট এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশ দিয়ে ২০২৩ সালের মধ্যে তা কার্যকর করতে বললেও কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি ভাড়াটিয়ারা।
এই বিষয়ে রেলের আইনজীবীও জানিয়ে দেন, অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রকল্পের জমিতে থাকা যে কোনো ব্যক্তিই ওই এককালীন আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নির্ধারণ করার দায়িত্ব ছিল রাজ্য সরকারের। তৎকালীন রাজ্য সরকার সেই অঙ্ক নির্দিষ্ট না করে দেওয়ায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। উভয়পক্ষের সওয়াল শুনে বিচারপতি ভট্টাচার্য নিজের নির্দেশে জানিয়ে দেন, আগামী ১৮ জুলাই পর্যন্ত উচ্ছেদের নোটিসের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ থাকবে। ২০২৩ সালের মধ্যে কেন ওই বাসিন্দাদের টাকা মেটানো হয়নি রেলকে তা হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে। এছাড়াও অবিলম্বে মামলাকারী ভাড়াটিয়াদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে রেলকে।