• টাকার বিনিময়ে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনকে ‘সিস্টেমে’ পরিণত করেছিলেন কালীচরণ!
    বর্তমান | ২৭ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরের কোনো রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী বা ডেভেলপার প্রাক্তন মেয়রের ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে এড়িয়ে কাজ করতে পারতেন না। অভিযোগ, এর জন্য নির্মাণসংস্থাগুলি থেকে মোটা টাকা নিতেন তিনি। তদন্তে নেমে এমনটাই জানতে পারছে ‘সিট’। তারা আরও জেনেছে, পুরসভার অফিসে বসেই ‘ডিল’ ফাইনাল করতেন কালীচরণ। কোথায়, কীভাবে পেমেন্ট করতে হবে, তাও বলে দিতেন। কারা তাঁর হয়ে টাকা সংগ্রহ করতেন, সেই তথ্য খুঁজছেন ‘সিট’-এর তদন্তকারীরা। পাশাপাশি, কলকাতা পুরসভার এই আধিকারিকের কোথায় কত সম্পত্তি ও বিনিয়োগ রয়েছে, সেই খোঁজখবরও শুরু হয়েছে। 

    তারাতলায় গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনায় ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ কালীচরণ। তদন্তে উঠে আসছে, শুধু তারাতলার ওই সাইটই নয়, কলকাতা পুরসভা থেকে যে কোনো নির্মাণের প্ল্যান অনুমোদন করানোর ক্ষেত্রে তিনিই ছিলেন শেষ কথা! পুরসভার নথিভুক্ত এলবিএস-রা কোনো প্ল্যান বিল্ডিং বিভাগে জমা দেওয়ার আগেই নিয়ে আসতেন কালীবাবুর কাছে। সেখানেই হত আসল ‘ডিল’। কোন জমিতে সর্বোচ্চ ক’টি তলের অনুমোদন দেওয়া, পুর-ইঞ্জিনিয়ারদের সরেজমিনে খতিয়ে দেখার আগেই তা ঠিক করে দিতেন কালীচরণ। সেইমতো নির্দেশ পৌঁছে দিতেন প্ল্যান অনুমোদনের ভারপ্রাপ্ত নির্দিষ্ট কমিটির সদস্যদের কাছে।  প্রভাব খাটিয়ে তাঁর পাঠানো সবক’টি প্ল্যানের নকশা অনুমোদন করিয়ে নিতেন। তদন্তকারীদের দাবি, বিল্ডিং বিভাগে তাঁর নির্দেশ মানছে কি না, তা দেখার জন্য ঘনিষ্ঠ একজনকে রেখে দিয়েছিলেন। কোনো ডেভেলপার বা নির্মাণসংস্থা কালীচরণকে এড়িয়ে প্ল্যান অনুমোদনের চেষ্টা করলে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সেটি তিনি আটকে দিতেন বলে অভিযোগ। আরও অভিযোগ, জমির আয়তন ও রাস্তার দৈর্ঘ্য-প্রস্থ অনুযায়ী যতগুলি তলের অনুমোদন পাওয়া উচিত, প্রাক্তন এই ওএসডির হাতযশে তার চেয়েও বাড়তি তল অনুমোদন পেয়েছে। প্ল্যানের নকশা জমা পড়ার পর সেটি পাশ হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত আগেই নিয়ে নিতেন কালীচরণ। এরপর তৎকালীন মেয়রকে জানাতেন, তিনি সবকিছু দেখে নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, পুরসভায় বিভিন্ন বিভাগে বদলির ক্ষেত্রেও কালীচরণই ছিলেন শেষ কথা। সরকারি কর্মীদের সঙ্গে দুর্বব্যহারে অভিযোগও উঠে আসছে। তদন্তে উঠে আসছে, যে যত বেশি টাকা দিতে পারত, তার তত বেশি তল নির্মাণের অনুমতি মিলত। প্ল্যান জমা পড়ার পর ৬০ শতাংশ দিতে হতো। বাকি ৪০ শতাংশ পেমেন্ট হত প্ল্যান অনুমোদিত হয়ে যাওয়ার পর। কোনো কোনো রিয়েল এস্টেট কোম্পানিকে প্ল্যান পিছু ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে হত বলে অভিযোগ। গোটা বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের জন্য কালীচরণের একটি টিম ছিল। এলবিএস, ইঞ্জিনিয়ার,অগ্নিনির্বাপণ দপ্তরের অফিসার থেকে শুরু করে পুলিশ আধিকারিকরাও ছিলেন সেই টিমে। তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে ‘সিট’। 
  • Link to this news (বর্তমান)