স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ও আর্কিটেক্টের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ, ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করার ঘোষণা শুভেন্দুর
বর্তমান | ২৭ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তারাতলায় গোডাউন বিপর্যয়ের ঘটনায় এবার ওই নির্মাণের আর্কিটেক্ট এবং স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হল। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার শান্তনু দত্তকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আর্কিটেক্ট সুপ্রতিম চৌধুরীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে ‘কাউন্সিল অব আর্কিটেক্টস’-এর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের তালিকা থেকেও তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, তাঁদের ‘ব্ল্যাক লিস্টেড’ করা হবে। এদিকে, পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকদের দিকে আঙুল ওঠায় পালটা লাইসেন্সড বিল্ডিং সার্ভেয়ার (এলবিএস) বা সুপারভাইজার, আর্কিটেক্ট এবং স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারদের গাফিলতি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে পুরসভার কর্মচারী মহলে।
তারাতলায় এত বড়ো গোডাউন নির্মাণের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে ত্রুটি নজরে এসেছে। ঘটনার ময়নাতদন্তে উঠে এসেছে, প্রশাসনের নজরদারির ক্ষেত্রে গাফিলতি ছিল। নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেননি পুরসভার আধিকারিকরা। পুরসভার আধিকারিকদের একাংশের পালটা বক্তব্য, নিয়ম অনুযায়ী কোনো নির্মাণের ভিত তৈরির পর সংশ্লিষ্ট এলবিএস বা আর্কিটেক্ট এবং স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার সেই কাজ খতিয়ে দেখেন। তাঁদের তরফে স্ট্রাকচারাল ডিজাইন বা প্ল্যান জমা দেওয়া হয়। তারপরই মূল নির্মাণের অনুমতি মেলে। কিন্তু এক্ষেত্রে টাকাপয়সার লেনদেনের জন্যই নজরদারি হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে নির্দিষ্ট নকশার বাইরে গিয়ে নির্মাণ হয়েছে।
পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, ‘আমাদের অফিসারদের একাংশের ত্রুটি অবশ্যই রয়েছে। কিন্তু পুরসভার কর্মীবল পর্যাপ্ত নয়। রোজ রোজ একজন স্থানীয় অফিসারের পক্ষে তিন থেকে চারটি ওয়ার্ড ঘুরে নির্মীয়মাণ ভবনে নজরদারি সম্ভব নয়। তাই সংশ্লিষ্ট নির্মাণের এলবিএস, আর্কিটেক্ট এবং স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারদের উপর আমরা নির্ভর করি। কিন্তু তাঁরাই যদি গাফিলতি করেন, পয়সা খেয়ে আমাদের ভুল রিপোর্ট দেন, তাহলে তো পুরসভার অফিসারদের কিছু করার থাকে না। আবার এটাও ঠিক, বিশেষজ্ঞদের রিপোর্ট পাওয়ার পর পুরসভার অফিসারদেরও সেটা
খতিয়ে দেখে নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে কোনো নিরপেক্ষ সংস্থা বা বিশেষজ্ঞকে দিয়ে রিপোর্ট করানো যেতে পারে। কিন্তু পুরসভার সেই পরিকাঠামো নেই।’