নগরায়নে বাধা দেওয়া উদ্দেশ্য নয়, অডিটে সন্তুষ্ট হলেই দ্রুত মিলবে ছাড়পত্র: মুখ্যমন্ত্রী
বর্তমান | ২৭ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ৩১ জুলাই পর্যন্ত শহরের সমস্ত নির্মীয়মাণ ভবনের কাজ বন্ধ থাকবে। তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ার পর এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে ছাড়পত্র পাওয়া এই সমস্ত নির্মাণের অডিট করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। সরকারি এবং জরুরি পরিষেবা সংক্রান্ত নির্মাণ অবশ্য এই নির্দেশিকার বাইরে থাকছে। কিন্তু একমাস ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকলে নগরায়ন সম্পর্কে সরকারের মনোভাব নিয়ে ভুল বার্তা যেতে পারে বিভিন্ন মহলে। তাই শুক্রবার সরকারের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সব কাজ বন্ধ রেখে নগরায়নে বাধা দেওয়া আমাদের উদ্দেশ্য নয়। যেখানে যেখানে ভিজিট হবে, খতিয়ে দেখে সন্তোষজনক মনে হলে সেগুলি পর্যায়ক্রমে দ্রুত এনওসি দিয়ে দেওয়া হবে। বহুতলের ক্ষেত্রে ছ’তলা বা তার বেশি তলের নির্মীয়মাণ আবাসনগুলির অডিট করবে সরকার। এদিন আরও কয়েকটি পুরসভা এলাকাকেও এই অডিটের আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে এনডিআরএফের মতো রাজ্যেও প্রশিক্ষিত বিপর্যয় মোকাবিলা দল তৈরির ঘোষণা করেছেন তিনি। একটি হাইপাওয়ার কমিটিকে সমস্ত বহুতল আবাসন এবং বাণিজ্যিক ভবনের ফায়ার অডিট করানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর জন্য ৯০ দিন সময় বেঁধে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন ময়দানে পূর্তদপ্তরের টেন্টে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কলকাতা পুরসভা, বিধাননগর, রাজারহাট-নিউটাউন, এনকেডিএ, পুজালি, বারুইপুর, বজবজ, মহেশতলা, রাজপুর-সোনারপুর, দক্ষিণ দমদম, কামারহাটি, বরানগর, হাওড়া ও বালি পুরসভার একাংশকে অডিটের আওতায় আনা হচ্ছে। এসব অঞ্চলে কোন কোন নির্মাণের অডিট হবে, তা চূড়ান্ত করবে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গার্ডেনরিচ থেকে কসবা, তিলজলা থেকে তারাতলা—গত এক বছরে যে ঘটনাগুলি দেখলাম, এর একটা শেষ হওয়া জরুরি। নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। প্রত্যেকটি জীবনের দাম রয়েছে। তাই অডিট করানোর সিদ্ধান্ত। যখন যে এলাকা, যে ওয়ার্ডে ভিজিট হবে, সেখানে নির্মীয়মাণ ভবনের প্ল্যান এবং ফিজিক্যাল স্ট্রাকচার স্পেশাল অডিট করার পরেই মিলবে ছাড়পত্র। ফেলে রাখার বিষয় নেই। সবাইকে একসঙ্গে অপেক্ষা করানোর কোনো মানসিকতাও নেই সরকারের। যেসব ক্ষেত্রে প্ল্যান বহির্ভূত নির্মাণ হচ্ছে বা ইমরিতি সামগ্রীর গুণমান খারাপ বা গাফিলতি নজরে আসবে, সেখানে কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে।’
এদিন এনডিআরএফের উদ্ধারকাজের প্রশংসা শোনা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর গলায়। তিনি বলেন, ‘তারাতলায় ১৪-১৫ জন মারা গিয়েছেন, এটা দুঃখজনক। কিন্তু উদ্ধারকাজ ভালোভাবে এগচ্ছে। বিগত সরকারের আমলে কোনোদিন এত বড়ো ঘটনায়ও সেনা বা এনডিআরএফ-কে নামানো হত না।’ এই প্রেক্ষিতেই রাজ্য ঠিক করেছে, ২০০ জনের একটি স্পেশাল উদ্ধারকারী দল গড়া হবে। এনডিআরএফ তাঁদের প্রশিক্ষণ দেবে। ‘অগ্নিবীর’দের সেখানে নেওয়া হবে। ১০০ জন কলকাতায়, সুন্দরবনে ৫০ জন ও পাহাড়ে থাকবেন ৫০ জন। আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকবে তাঁদের কাছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। রাজ্য বাজেটেও ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব আছে। দুর্গাপুজোর আগেই এই প্রশিক্ষিত টিম তৈরি করা যাবে বলে আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রী। নিজস্ব চিত্র