পাঁচিল ঘেরা জায়গা। বাইরের গেটে লেখা ‘বিনা অনুমতিতে প্রবেশ নিষেধ’। সামনে কিছুটা ফাঁকা অংশ। এর পরেই সুসজ্জিত বাগান বাড়ি। কোনও বিত্তশালী ব্যবসায়ী বা তারকার বাগান বাড়ি নয়। এটি বানিয়েছিলেন তৃণমূলের যুব সভাপতি পাপাই ঘোষ। সেই বাগান বাড়িতে নানা অসামাজিক কার্যকলাপ চলত বলে অভিযোগ। পালাবদলের পরে থেকেই তিনি বেপাত্তা পাপাই। স্থানীয়রা বাগান বাড়ি জবরদখলের অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালতের নির্দেশে, শনিবার সকালে বুলডোজ়ার অভিযান চলল সেই বাগান বাড়িতে।
বহরমপুর পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সৈয়দাবাদের সুড়সুড়ি মাঠ লাগোয়া এলাকায় ছিল ওই বাগান বাড়ি। ওই বাগান বাড়িতে বসে অভিযুক্ত পাপাই ঘোষ এলাকার মানুষের যাবতীয় সমস্যা সমাধান করতেন বলে জানা গিয়েছে। সেই সঙ্গে কাউকে হুমকি দিতে হলেও তাঁকে ওই বাগান বাড়িতে ডেকে পাঠানো হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই বাগান বাড়িতে পাপাই ঘোষের অনুগামীদের আনাগোনা লেগেই থাকত। প্রতি দিন রাতে ওই বাগান বাড়িতে পিকনিক হতো এবং অনেক রাত পর্যন্ত মদ-মাংস খাওয়া চলত। তাঁদের ভয়ে রাত-বিরেতে পাড়ার লোকজন থেকে মহিলারা ওই বাগান বাড়ি লাগোয়া রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতেও ভয় পেতেন।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই জায়গার মালিক হাওড়া এলাকায় থাকেন। জায়গাটি বেওয়ারিশ অবস্থায় পড়ে ছিল দীর্ঘদিন। কংগ্রেস পরিচালিত বহরমপুর পুরবোর্ড ওই ফাঁকা জায়গায় এলাকার শিশুদের স্বার্থে একটি শিশু উদ্যান গড়ে তোলে। বাকি অংশ ফাঁকা পড়ে ছিল। পরবর্তীতে বহরমপুর পুরসভা তৃণমূলের দখলে এলে ওই ফাঁকা জায়গার নকল দলিল করে পাপাই ঘোষ দখল নিয়েছিল বলে অভিযোগ। এ নিয়ে এলাকাবাসী কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থে মামলা করেন। ওই মামলার রায় এলাকাবাসীর পক্ষে যায়। এর পরে এ দিন প্রশাসন বুলডোজ়ার নিয়ে গিয়ে ওই বাগান বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।
পাপাইয়ের ঘোষের মা চম্পা ঘোষ বলেন, ‘আমার ছেলে এখন কোথায় আছে জানি না। তবে এই জমিতে আমাদের একটি বাড়ি ছিল। আমাদের কাছে দলিল আছে। কোর্টে সেটা দেখানো হয়েছিল। আজ শুনলাম ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের কিছু জানানো হয়নি।’
বিজেপি'র বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মলয় মহাজন বলেন, 'অবৈধ দখলদারি আমরা রুখব। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার কথা বলেছেন। ফলে প্রশাসন তাঁর কাজ শুরু করেছেন। এ দিন পাপাই ঘোষের বাগান বাড়ি ভাঙা হয়েছে। আগামী দিন যাঁরা এমন অবৈধ দখল করে রেখেছেন, তাঁরাও পার পাবেন না।'