দখল হয়ে যাচ্ছিল ইছামতির পাড়, রাজ্যে সরকার বদল হতেই টাকিতে অবৈধ গেস্ট হাউস ভাঙার নির্দেশ!
News18 বাংলা | ২৭ জুন ২০২৬
দখল হয়ে যাচ্ছিল ইছামতীর পাড়৷ নদীর গা ঘেঁষে গড়ে উঠেছিল একের পর এক গেস্ট হাউস, হোটেল৷ এতদিন নিশ্চিন্তে ব্যবসা করলেও রাজ্যে পালাবদলের পরই এবার অবৈধভাবে তৈরি হওয়া দুটি গেস্ট হাউস ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিল হাইকোর্ট৷
ইছামতী নদীর ধারে ঐতিহ্যবাহী পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে উত্তর চব্বিশ পরগণার টাকি৷ টাকির পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে ইছামতি নদী৷ ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে যেখানে রয়েছে একাধিক জমিদার বাড়ি৷ আবার নদীর অন্যপাশে রয়েছে বাংলাদেশের দেভাটা গ্রাম। নদীতে নৌকায় ভ্রমণের পাশাপাশি বাংলাদেশকে খুব কাছ থেকে দেখার আকর্ষণে সারাবছরই পর্যটকরা টাকিতে ভিড় করেন। বিশেষত শীতকালে টাকি পর্যটকদের ভিড়ে জমজমাট থাকে৷
কিন্তু সেই টাকির ইছামতী নদীর পাড় দখল করে গত কয়েক বছরে রাতারাতি একের পর এক গেস্ট হাউস তৈরি হয়েছে৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তৎকালীন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের প্রভাব এবং প্রশাসনের একাংশের মদতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে সরকারি জমি দখল করে অধিকাংশ গেস্ট হাউস তৈরি হয়েছে৷ এতদিন তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েও লাভ হয়নি৷
অভিযোগ, এলাকার মানুষ এবং পরিবেশপ্রেমীরা বহুবার এই নিয়ে তৃণমূল সরকারের আমলে বিভিন্ন দফতর এবং পৌরসভায় অভিযোগ জানিয়েও কোন কাজ হয়নি।
অবশেষে সরকার বদলের পর আইনজীবী ওমর ফারুক এবং তার সহযোগীরা এই অবৈধ গেস্ট হাউসগুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টে আবার মামলা করেন। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই দিশা এবং সিটি নামে দুটি গেস্ট হাউস ভাঙার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট৷ হাইকোর্টের নির্দেশ মতো টাকি পুরসভা দুটি গেস্ট হাউস ভাঙার নোটিস জারি করেছে। আগামী ১ জুলাই দুটি গেস্ট হাউস ভাঙা হবে বলে খবর।