• অত্যাধুনিক মেশিন থাকলেও কেন তা অব্যবহৃত? কান্দি হাসপাতালে চলছে থ্রেট কালচার? কড়া পদক্ষেপ মন্ত্রীর
    News18 বাংলা | ২৭ জুন ২০২৬
  • : হাসপাতাল সুপারের  সঙ্গে ডাক্তার, অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার এবং অন্য বেশ কিছু কর্মীর ‘তিক্ত’ সম্পর্কের জেরে পরিষেবা লাটে উঠেছে মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দি মহকুমা হাসপাতালে। হাসপাতালে চলছে থ্রেট কালচার! জিরো টলারেন্সের নীতি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ পেয়ে এবং হাসপাতালের সুষ্ঠ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হঠাৎই হাজির হলেন রাজ্যের বিদ্যুৎ দফতরের প্রতিমন্ত্রী তথা কান্দির বিজেপি বিধায়ক গার্গী দাস ঘোষ।

    হাসপাতালে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী স্বীকার করে নিয়েছেন কান্দি হাসপাতালে ‘থ্রেট কালচার’ এবং সুপারের আচরণ নিয়ে তাঁর কাছে বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে। সেগুলো নিয়ে তদন্ত হবে। তবে এই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে তিনি কোনও মন্তব্য করবেন না। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের উদ্যোগে কান্দি মহকুমা হাসপাতালের মানোন্নয়নের জন্য সেখানে শতাধিক শয্যা বাড়ানো হয়েছে। এর পাশাপাশি সেখানে একাধিক নতুন যন্ত্রপাতি এবং চিকিৎসকও নিযুক্ত করা হয়েছে।

    তবে ওই হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা বহু রোগীর আত্মীয়দের অভিযোগ যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ইতিমধ্যেই হাসপাতালে একাধিক পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে। রাজ্যের মন্ত্রীকে সামনে পেয়ে অনেকেই হাসপাতালে সুপারের সঙ্গে কিছু চিকিৎসক এবং অন্যান্য কর্মচারীর দ্বন্দ্বের বিষয়টি তুলে ধরেন।  তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালের বেশিরভাগ চিকিৎসক কোয়ার্টারে থাকেন না এবং সপ্তাহে পাঁচ দিন ডিউটি করেন না।  বহু রোগীর আত্মীয়রা দাবি করেছেন , কান্দি হাসপাতালে ডাক্তাররা রোগীদেরকে কেবলমাত্র একবার দেখতে আসেন। অনেক সময় রোগীর অবস্থা খারাপ হলে বিনা চিকিৎসায় তাঁদেরকে শয্যায় পড়ে থাকতে হয়।

    রাজ্যে বিদ্যুৎ দফতরের প্রতিমন্ত্রী গার্গী দাস ঘোষ বলেন, “সম্প্রতি আমি একবার এই হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে কর্তৃপক্ষকে একাধিক পরামর্শ ও নির্দেশ দিয়ে গিয়েছিলাম। সেগুলো কতদূর পালন করা হয়েছে , হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীরা ঠিকমতো পরিষেবা পাচ্ছে কিনা, ডাক্তাররা তাঁদেরকে নিয়মিত দেখছেন কিনা, হাসপাতালে শৌচাগার পরিষ্কার রয়েছে কিনা এবং হাসপাতালের মহিলা কর্মীদের শৌচাগার এবং ‘চেঞ্জিং রুম’ ঠিকমতো রয়েছে কিনা এগুলোর পরিদর্শন করার জন্যই আজ আমি এসেছিলাম। হাসপাতালের কিছু চিকিৎসক এবং কর্মীর বিরুদ্ধে রোগীর পরিবারের লোকেরা কিছু অভিযোগ আমাকে জানিয়েছেন। সেগুলো নিয়ে ইতিমধ্যে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের সঙ্গে একপ্রস্থ আলোচনা হয়েছে। তিনিও খুব শীঘ্রই হাসপাতাল পরিদর্শনে আসবেন। কীভাবে এই সমস্যা মেটানো যায় তা আমরা দেখছি। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তরফ থেকে হাসপাতালকে কিছু অত্যাধুনিক মেশিন দেওয়া হয়েছে কিন্তু সেগুলো এখনও ব্যবহার করা হয়নি। এর কারণ কী তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালে রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের যাতে কোনও অভাব না হয় সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। কান্দি হাসপাতালে ‘থ্রেট কালচার’ নিয়ে আমাদের কাছে কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে। তবে সমস্ত বিষয় নিয়ে সব জায়গায় কথা বলা যায় না। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    কান্দি হাসপাতালের সুপার ডাঃ রাজেশ চন্দ্র সাহা অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্বের কথা প্রকাশ্যে মেনে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে ওয়ার্ড মাস্টার পদে নিয়োগ হয়নি। এর পরিবর্তে অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার বাইরে থেকে তিনজন কর্মী নিয়োগ করে কাজ করাচ্ছেন। বারবার বলা সত্ত্বেও গ্রুপ-ডি পদে নিয়োগ করা হচ্ছে না। শিশু বিভাগের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও তিনি অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারের দিকে আঙুল তোলেন। বারবার শিশু বিভাগ পরিষ্কার করার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু সেই ব্যবস্থা না করে উল্টে তিনিই আমার উপর অভিযোগ আনছেন। যখনই আমি কর্মচারীদের কাজের দায়িত্ব দিচ্ছি, তখনই তাঁরা আমার বিরুদ্ধে নানা মিথ্যে অভিযোগ আনছেন। কিন্তু সরকারি অফিসার হিসেবে তাদের দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়া আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আর সেটা করাতে গেলেই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে।”
  • Link to this news (News18 বাংলা)